নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন চলমান কাজ পরিদর্শন করেন। শুক্রবার সকালে রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার বিএমডিএ এর আওতাধীন পদ্মা নদী হতে সরমংলা খালে ভূ-উপরিস্থ পানির সেচ কার্যক্রম ও নেট মিটারিং সিস্টেম এর মাধ্যমে সেচ কাজ পরিচালনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ পরিদর্শন করেন তারা। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব) ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার একান্ত সচিব সারওয়ার মোশেদ (উপসচিব)।
এ সময় উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনকালীন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাধারণ জনগণকে তা তিনি বাস্তবায়ন করে চলেছে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও পহেলা মে কৃষিকার্ড বিতরণ করবেন এই সরকার। দেশের মানুষের জন্য এই সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন করে আমি মুগ্ধ। উত্তর অঞ্চলকে শস্য ভান্ডারে পরিণত করেছে বিএমডিএ।
কৃষির মাধ্যমে একটি এলাকার চিত্র বদলে দিতে পারে তা এই প্রতিষ্ঠানটি করে দেখিয়েছে। তারা খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন। সোলারের মাধ্যমে সেচ পরিচালনা করছে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে প্রেরণ করছে। বৃক্ষ রোপনসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কৃষকের কথা চিন্তা করে। কৃষকের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তাই এই এলাকার কৃষকের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা কৃষকের জীবন মান আরও উন্নয়ন হবে।
উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, কৃষি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, ঋণ এবং কৃষি উপকরণের সুবিধা পাবেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং কৃষকদের জন্য নায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগটি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ।
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগে একটি ফসল উৎপাদন হতো। ফসল উৎপাদনের জন্য পানির জন্য অপেক্ষা করতে হতো দীর্ঘ দিন। কিন্তু ডিপ টিউবওয়েল মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে এখন এক ফসল থেকে তিন ফসলে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবন মান উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে কৃষকদের কি কি সুবিধা দেওয়া যায় সেই পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করবেন। এতে কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব করতে সম্ভব হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন, সচিব মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, শিবির আহমেদ, জিন্নুরাইন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ও গোদাগাড়ী সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকার সহ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এদিকে সকালে সরমংলা ইকো পার্কে উপদেষ্টা, রেহান আসাদ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গাছের চারা রোপন করেন।