নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে রয়েছে ৩০টি ওয়ার্ড। ৩০টি ওয়ার্ডেই কমবেশী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোপূর্বে রাসিক ৩নং ওয়ার্ডে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ না হলেও বর্তমান কাউন্সিলর কামাল হোসেন তাঁর ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। অত্র ওয়ার্ডের দাশপুকুর ও ব্যাংক কলোনীতে ড্রেন ও রাস্তার কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়া বহরুমপুর মোড় হতে বহরুমপুর শেষ মাথা প্রধান সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশ্বে সকল গলিপথের রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দাশপুকুর মরহুম নুজবার আলীর বাসা হতে মরহুম ভাদু শেখের বাড়ী, হাবিবুরের বাড়ীর পূর্বে দিক দিয়ে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী তাজুর বাড়ী হয়ে ডিবি আনোয়ারা স্কুলের পূর্বদিক হয়ে সকল রাস্তা ও ড্রেনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ।
এছাড়া দাশপুকুর হাকিমের বাড়ীর সামনের দিকে আনারুলের বাড়ী হয়ে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মুন্জুর রহমানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে । মরহুম রাজ্জাকের বাড়ী হতে অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি আফতাব উদ্দীনের বাড়ীর পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই। ডিঙ্গাডোবা ব্যাংকলোনী মুক্তিযোদ্ধা হামিদ সাহেবের বাসার সামনের রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংক কলোনী মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা ও বসির উদ্দিনের গলির রাস্তা ও ড্রেনের কাজ ও জাকির ড্রাইভারের বাড়ীর সামনের রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঘোষমাহাল নিমতলা মোড়ের আক্তারের বাড়ীর সামনে রাস্তা ড্রেন সহ ঐ এলাকায় প্রায় সব গলিপথের মাটির রাস্তা এখন পাকা ও ড্রেনের কাজ শেষ। ডিঙ্গাডোবা মরহুম মোজাম্মেল ডা. এর বাসা হইতে মসজিদের সামনে দিয়ে সকল রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে ।
এ বিষয়ে অত্র এলাকা সমুহের জনগণের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন, হাবিবুর রহমান পিন্টু ও তাসিকুর রহমানসহ আরো অনেকে বলেন, পূর্বে অনেক কাউন্সিলর চলে গেলেও অত্র ওয়ার্ডে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিশেষ করে দাশপুকুরের চারপাশে কোন কাউন্সিলরই কোনদিন কোন ড্রেনের কাজ করে দেন নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নিস্কাশন না হতে পেরে সমস্ত রাস্তা ডুবে যেত। ড্রেন না থাকায় অনেক সময় ঘরের মধ্যে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতো। সেইসাথে পাকা রাস্তা না থাকায় কাদা পানির মধ্যে দিয়ে তাদের চলাচল করতে হতো বলে জানান তারা।
এদিকে দাশপুকুর ও ব্যাংক কলোনীতে বসবাসরত অন্যান্যরা বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দুর হয়েছে। ড্রেনতো হচ্ছেই। সেইসাথে ড্রেনের সাথে রাস্তা হওয়ায় চলাচল এখন নির্বিঘ্ন হয়েছে। এই উন্নয়ন কার্যক্রম করায় তারা কাউন্সিলরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উন্নয়নের বিষয়ে জানতে রাসিক ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাক্ষাতকার নিলে সে সময়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি এই ওয়ার্ডের ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তিনি সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর ওয়ার্ডে যথেষ্ট পরিমানে বরাদ্দ দিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ পেয়েছেন এবং কাজ হয়েছে । অত্র ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি রাস্তা ও ড্রেন তিনি সমাপ্ত করেছেন। এখনো দাশপুকুর ও ব্যাংক কলোনীর কিছু কিছু রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ওয়ার্ডের সাথে তার ওয়ার্ডেও নতুন করে আবারও আরো বরাদ্দ দিয়েছেন মেয়র। সমস্ত কাজ শেষ করতে পারলে এই ওয়ার্ডে আর কোন প্রকার জনদূর্ভোগ থাকবেনা বলে জানান কাউন্সিলর। এচাড়াও বিলসিমলা এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে বরে জানান তিনি ।
কাউন্সিলর আরো বলেন, তিনি রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুধু করছেন না। দরিদ্র অসহায়দের পাশে সর্বাদাই আছেন। তাদের জন্য বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান সহ সরকারি বরাদ্দকৃত সকল কিছুই নাগরিকদের জন্য তিনি করে চলেছেন। স্বচ্ছতার সাথে টিসিবি আড়াই হাজার পরিবারকে তিনি কার্ড প্রদান করেছেন । এছাড়াও করোনা কালীন সময়ে প্রাপ্য প্রতিটি পরিবারে খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেছেন। আগামীতে সরকারী সকল সুবিধা যেন জনগণের মধ্যে প্রদান ও উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রাখতে পারেন তার জন্য ওয়ার্ডবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন কাউন্সিলর কামাল হোসেন।
কামাল হোসেন বলেন সৃষ্টিকর্তা পিছিয়ে থাকা অবহেলিত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আগামীতে যদি তিনি আবার জনগণের সেবা করার সুযোগ পান তাহলে এই ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করবেন। চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনের সময়ে তার সাথে ছিলেন বড় ছেলে সোহান শাকিল শিমুল, ছোট ছেলে জাহিদ হোসেন মুন সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।