নিজস্ব প্রতিবেদক: গভীর রাতে ভেঙ্গে পড়েছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় ভবন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর কার্যালয়ে অবস্থান করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শহীদ জামিল ব্রিগেডের দুজন সদস্য। এতোদিন ভবনটিতে ঝুঁকি নিয়েই দুটি অফিসের কার্যক্রম চলছিলো। আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে ভবনটি ধসে পরে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ভবনটি পুরনো ও জরাজীর্ণ। অনেক দিন থেকেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভবনটিতে ঝুঁকি নিয়েই দুটি অফিসের কার্যক্রম চলছিল। ভবনে অবস্থানকারী দুইজন সদস্য বলেন, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দ পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায় তাদের। উঠে তারা দেখতে পান দোতালা ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা দ্রুত নিচে নেমে পড়েন। একই ভবনে রাজশাহী প্রেসক্লাবও রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় ওই ভবনসহ পাশের দুটি ভবনও ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। ভবনটি মূল সড়কের পাশে হওয়ায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যেভাবে ভবনটির সামনের অংশ ভেঙে পড়েছে, সেটি দিনের বেলা বা মধ্য রাতের আগে হলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। কারণ এই স্থানে প্রচুর জনসমাগম লেগেই থাকে। এই অবস্থায় ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বোয়ালিয়া থানা ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ভবনটি সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছে। জরাজীর্ণ এ ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দিনের কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, মহানগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে ১৯৫৪ সালে স্থাপিত কুঞ্জ ভবন নামের দোতলা ভবনটির উপরে ওয়াকার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর ও জেলা কার্যালয়।নিচতলায় রাজশাহী প্রেসক্লাব।

ভবনটির পাশে কয়েক বছর আগে বহুতল একটি ভবন নির্মিত হলে দোতলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপরও সেখানে ওয়ার্কার্স পার্টি ও প্রেসক্লাবের কার্যক্রম চলছিল। ভোরে ভবনটির দোতলার সামনের অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে।এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঐ ভবনটি বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনটিতে লাল ফিতা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।