নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাসড়কে সিএনজি ও থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর বাস মালিক ও শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় রাজশাহী নগরীর শিরোইলে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানানো হয়। রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অদক্ষ সিএনজি ও থ্রি হুইলার চালকেরা। বাসের সাথে দুর্ঘটনায় তাদের প্রাণও ঝরছে। দুর্ঘটনা ঘটলে বাস চালকদের বলা হয় ‘ঘাতক’। কিন্তু সিএনজি ও থ্রি হুইলার চালকেরা কতটুকু দক্ষ ছিলেন, তাদের লাইসেন্স আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হয় না। তাদের অদক্ষতার কারণেই অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই সিএনজি ও থ্রি হুইলার যেন মহাসড়কে চলাচল না করে। রাজশাহীর প্রশাসনকে এ ব্যাপারে এখনই কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। অন্যথায় রাজশাহীর সড়ক পরিবহন সেক্টরে যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে, সেটি বিশৃঙ্খল হলে এর দায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের কার্যনির্বাহী সদস্য মাহাবুবুল আলম মাসুম বলেন, ‘সড়কে বাস চলাচল করে, তার রুট পারমিট আছে। কিন্তু সিএনজি এবং থ্রি হুইলার কীসের ভিত্তিতে চলে? তাদের যদি রুট পারমিট থাকে তাহলে চলুক। না থাকলে বন্ধ করা হোক। এখন একটা সড়কে এত বেশি সংখ্যক থ্রি হুইলার ও সিএনজি চলে যে বাস যাওয়ার রাস্তা পায় না। মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার সকালে রাজশাহীর তানোর থানার সামনে এক সিএনজি চালক বাসের এক চালককে মারধর করেন এবং তার পকেট থেকে টাকা কেড়ে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকেরা প্রায় এক ঘণ্টা রাজশাহী-তানোর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। শ্রমিকেরা আন্তঃজেলা এবং দূরপাল্লার বাসও বন্ধ করে দিতে চাচ্ছিলেন। তবে শ্রমিক নেতারা তা না করে প্রথমে সিএনজি ও থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধের দাবি জানাতে চান।
আর এ কারণেই সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।