নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ভাগ্নের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াসিমুল হক নামের এক ব্যক্তি। তিনি জেলার পবা উপজেলার একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাঁর ভাগ্নে আল ফারুক আহমেদ ওরফে নতুন পবার নওহাটা পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। আওয়ামী সরকারের পতনের পর দলটির নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও ‘নতুন’ এখনও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ওয়াসিমুল হক। তার অভিযোগ, আওয়ামী সরকারের আমলে ভাগ্নে নতুন তার নিকট থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকা নিয়েছেন। এখনও তিনি টাকার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী তানিয়া খাতুনের ভাই জনির কারণে নতুন এখনও বেপরোয়া বলে উল্লেখ করেন।
ওয়াসিমুল লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আওয়ামী জামানায় এলাকার তৎকালীন এমপি আয়েন উদ্দিনের ছত্রছায়ায় নতুন এলাকায় নানা অপকর্ম করেছেন। তাছাড়া যখন-তখন টাকা চাওয়া, উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া চালচলনের জন্য তারা নতুনের সঙ্গে মেশেন না। কিছুদিন ধরে নতুন তাঁর কাছে মোটা অংকের ‘চাঁদা’ চেয়ে আসছিলেন। তিনি দিনে রাজি হননি বলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পবার ভুগরইল এলাকায় নতুন তার ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করতে যান।
সেখানে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে লোকজন তাকে থামিয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু রাতে নতুন আবার ২০-২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে হামলা করতে যান । ওয়াসিম দাবি করেন, এসব ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তার কাছে আছে। এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় কারনে তিনি রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু নতুনের স্ত্রী তানিয়া খাতুনও তাদের নামে উল্টো অভিযোগ দায়ের করেছেন যে বলে জানান তিনি। পাওনা টাকা নিতে ডেকে নিয়ে নতুনকে মারধর, টাকা ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তা সম্পুর্ন মিথ্যা , বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে দাবি করেন ওয়াসিমুল হক ।
তিনি বলেন, ‘নতুন তার নিকট কোন টাকাই পাবেন না। বরং, তার ব্যাংক ঋণের জন্য তিনি তাকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা দিয়েছেন। আর তাকে চেম্বারে ডাকার প্রশ্নই ওঠে না। তারাই নতুনের ভয়ে দূরে দূরে থাকেন। নতুন টাকার জন্য তার চেম্বারে ভাঙচুর করতে আসেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন সম্প্রতি নগরের বোয়ালিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় নতুন তাকে ফাঁসিয়ে ছিলেন। মামলায় তাকে আসামি করা হয়। পরে ভুল বুঝতে পেরে মামলার বাদী এফিডেফিট করে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে তার যেসব ঠিকাদারী কাজ চলছে, সেসব স্থানেও তাকে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওয়াসিমুলের ভাষ্য, পবা উপজেলায় তার একটি রাস্তার কাজ চলছে। একটি এলাকায় রাস্তার দুইপাশে সুরক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হলে পরে মাঝের রাস্তার কাজ করার কথা। এর আগে রাস্তার কাজ শুরুর আগেই বৃষ্টিতে মাঝের রাস্তার কিছু অংশ ধসে পড়ে। তখন তার ভাগনে নতুন অপপ্রচার চালান যে, রাস্তার কাজ চলমান অবস্থায় সেটি ধসে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে রাস্তার কাজই শুরু করা হয়নি। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এমন প্রচার করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় আছেন জানিয়ে ওয়াসিমুল হক বলেন, যেখানে পাবে সেখানেই তার ওপর আক্রমণ করবে বলে তাকে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি তার নিরাপত্তা নিয়ে এখন শংকিত। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলার বিচার দাবী করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিকেলে নতুনের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর স্ত্রী তানিয়া খাতুনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘ও এখন বাসায় নেই।’