নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা, মামলা হুমকি ও সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা গালাম মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, তার প্রতিবেশী মামুনুর রশিদ মামুন মাত্র ১৩ ছটাক জমির ওপর পাইলিং ছাড়া অনুমোদন বহির্ভুত ভাবে ৫ তালা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও যেকোন মুহুতে ভেঙ্গে পড়লে প্রাণহানীসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে।
ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মামুনুর রশিদ মামুনকে তিনিসহ এলাকাবাসী বাড়ির কাজ শুরুর প্রথম থেকে মৌখিকভাবে তাকে নিষেধ করলে তিনি বলেন, তিনি প্ল্যান অনুযায়ী বাড়ি করছে। এরপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা অম্যান্য করে বাড়ি নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ নভেম্বর আরডিতে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ পত্র নং ১৬০৩।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আরডিএ কর্তৃপক্ষ গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামুনুর রশিদকে অনুমোদন বহির্ভুত ইমারত নির্মাণ করায় কারণ দশানোর নোটিশ দেন। ইমারত নির্মান কমিটির পক্ষে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন। নোটিশে বলা হয়। এই নোটিশে উল্লেখ করেন মামুনুর রশিদ ছোটবনগ্রাম (ক্লাব মোড়) মহল্লায় ছোটবনগ্রাম মৌজায় আরএস ৭০৭ দাগে আংশিক পাঁচতালা পর্যন্ত ইমারত নির্মাণ কাজের অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করেননি এবং তিনি নির্মান কাজের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করেছেন। এত উল্লেখিত ইমারতে নিম্ন বর্নিত নির্মান বিচ্যুতি প্রতীয়মান হয়েছে।
প্রতিপক্ষ মামুনুর রশিদ তার ছেলেকে আহত দেখিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মেডিকেলে ভর্তি করে এবং চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোর্টে আত্মসমর্পন করেন এবং জামিন পান। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করছেন তিনি এবং সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। তিনি হুমকির বিষয়ে চন্দ্রিমা থানায় সাধারণ ডাইরি করতে গেলে পুলিশ আমার ডাইরি নেয়নি। পরে আমি রাজশাহী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ১৫১-পি/২০২২ চন্দ্রিমা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন মামুনুর রশিদ ইমারত নির্মাণের কোন প্রকার নিয়মনীতি অনুসরন না করাই ভবনটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোন সময় মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয় নিয়ে বলতে তিনি আমার পরিবারের উপর সার্বক্ষনিক মারপিট ও প্রাণ নাশের হুমখী দিয়ে আসছেন। তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। তিন এ ঝুঁকিপুর্ণ ভবন এলাকাবাসীর পক্ষে দ্রুত অপসারণ দাবি ও সমাজে শান্তি বিনষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত শেষে বিচার দাবী করেন তিনিসহ উপস্থিত জনগণ। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, আসাদুল ইসলাম, ডাবলু, ওবায়দুল ও মেরাজুলসহ অত্র এলাকার অন্যান্য ভূক্তোভোগি।
এ ব্যাপারে মামুনর রশিদ বলেন, তিনি কোন নোটিশ পাননি। তাই অপসারন বা ভাঙ্গার কোন কারণ নাই।