নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের আর মাত্র ১২-১৩দিন বাঁকী রয়েছে। কিন্তু এখনো জমে উঠেনি রাজশাহীর পাদুকা ব্যবসা। নগরীর সাহেব বাজার জুতা স্যান্ডেল মার্কেটে গিয়ে দোকানদারদের অলস বসে থাকলে দেখা যায়। এছাড়াও দুই একটি দোকানে কিছু ক্রেতা দেখা গেলেও দেখতে আসা জনগণ বেশি বলে জানান দোকানদারগণ। রাজশাহী পাদুকা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মিলন বলেন, টানা দুই বছর করোনার কারনে তারা লোকসান গুনেছেন। এবার ভাবছিলেন করোনা নাই ব্যবসা হবে। কিন্তু রোজা অর্ধেকের বেশী চলে গেলেও মার্কেটে কাস্টমার না থাকায় তারা হতাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, করোনার পূর্বের বছর গুলোতে এ সময়ে প্রতিদিন তাঁর দোকানে ৪০-৫০ হাজার টাকা বিক্রি হত। আর যাদের আরো বড় দোকার তাদের আরো বেশী বিক্রি হতো । কিন্তু এবার এর সম্পূর্ণ উল্টো। বুধবার পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন বিক্রি তার মাত্র আট থেকে দশ হাজার টাকা। এভাবে চলতে থাকলে দোকান ভাড়া, কর্মচারী বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংকের লভ্যাংশ কিভাবে দেবেন এবং কিভাবে সংসার পরিচালনা করবেন বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, একদিকে যেমন ব্যবসা নাই। অন্যদিকে প্রতি জুতা স্যান্ডেলে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ক্রেতারা বিমুখ হচ্ছে। এছড়া অনেক সময় ক্রেতাদের সাথে বাকবিতন্ডা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পাদুকা ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে সরকারের বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন চামড়ার দাম না থাকলেও চামড়াজাত পণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী বলে উল্লেখ করেন মিলন।
এদিকে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদে কেন্দ্র করে তারা ভাল ব্যবসা করে থাকেন। আর অন্য সময়ে গতানুগতিক ব্যবসা চলেন। দুই ঈদের ব্যবসা থেকে তারা সারা বছরে খরচ অনেকটাই উঠে আসে। কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, দুই ঈদে বেশী বিক্রি হওয়ায় লাভও বেশী হয় বলে জানান তারা। কিন্তু এবার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কি হবে ভেবে পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে জুতা স্যান্ডেল ক্রয় করতে আসা সোলায়মান, তন্নি, বাপ্পি, সিজার, টুকু ও ইমন জানান এবারে সব ধরনের পন্যের মূল্য বেশী। যেমন তেমন ধরনের জুতা হাজার টাকা নিচে নাই। একজোড়া স্যান্ডেল ক্রয় করতে গেলেও একই অবস্থা হচ্ছে। এভাবে সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পেলে কিভাবে চলবেন তারা। আর ঈদে আনন্দই বা কিভাবে করবেন বলে আক্ষেপ করেন। তারা সবাই নিত্যপন্য সহ সকল পন্যের মূল্য জনগণের নালগালে রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন তারা।