নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ডে ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে কারিতাস (মরু) নগর প্রকল্পের মাধ্যমে শর্তহীনভাবে ৩৭৭ জন অভাবগ্রস্থ, দুঃস্থ অসহায় মানুষদের অর্থ সহায়তা দেয়। প্রতিজন ব্যক্তিকে প্রতিবারে পাঁচ হাজার টাকা করে তিনবারে মোট পনের হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই অর্থ প্রদানের লক্ষে কারিতাস কর্তৃক একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটির সদস্যরা (মাঠকর্মীরা) প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এবং অফিসের নিয়ম বলে গ্রাহকদের টাকা প্রদানের পূর্বে প্রতিবার প্রতিজনের নিকট হতে ১০০০-২০০০টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি মতিহার থানার চরকাজলা ধরমপুর এলাকার মাঠকর্মী মোনোয়ারা বেগম (৪০), নাজমা বেগম (৪২), আঁখি খাতুন (২৬), কেয়া খাতুন (২৬), বিপাশা বেগম (২৮) এবং মকসেদ আলি (৫৫) এর বিরুদ্ধে ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চুর নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কাউন্সিলর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তিনি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান আলমগীর।
ভূুক্তভোগি পক্ষে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, যখন কাউন্সিলরগণ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা বা কোন প্রকার সুরাহা না করেন, তখন তারা ভূক্তভোগিদের কথা চিন্তা করে আলমগীর হোসেনকে দিয়ে একই বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। যেখানে ভূক্তভোগি জাহানারা, পাপিয়া, জেসমিন, হনুফা, আকলিমা, আজদা, মুন্টু ও শাপলাসহ আরো অনেকের স্বাক্ষর ও টিপসহি রয়েছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি আমলে নিয়ে আরএমপি পুলিশ কমিশনারকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। আরএমপি কমিশনার জেলা প্রশাসকের লিখিতভাবে পাঠানো অনুরোধ আমলে নিয়ে পরবর্তীতে মতিহার জোনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মতিহার বিভাগের এডিসি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগকারী আলমগীর হোসেন ও সকল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডেকে জবানবন্দি নেন বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করায় মাঠকর্মী ও তাদের স্বজনেরা মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন বলে প্রতিবেদকে জানান আলমগীর হোসেন। এ নিয়ে তিনি মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকার সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা পরে যাবে বলে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলমগীর আরো বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এক সময়ে একই এলাকার মকসেদ আলী নামে এক ব্যক্তি প্রতারক চক্রের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে আর কোন প্রকার সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিকদের বলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। কিন্তু সাংবাদিকরা তার কথায় কর্ণপাত না করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন। অত্র এলাকার ভূক্তভোগিরা আশা করেন আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন বলে আশা করেন।
এবিষয়ে রাসিক ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই অর্থ বিকাশ হিসাব নম্বর খুলে প্রতিজনকে বিকাশের মাধ্যমে কারিতাস কর্তৃপক্ষ পাঁচ হাজার টাকা করে তিনবারে মোট পনের হাজার টাকা প্রদান করেছেন। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি। তবে মাঠকর্মীরা কারো নিকট হতে কোন প্রকার টাকা নিয়েছেন কিনা তিনি তা জানেন না। তাঁর নিকট অভিযোগ দিয়েছেন আলমগীর। এ অভিযোগ নিয়ে তিনি অনেক গ্রাহকের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ বিষয়টি তাঁর নিকট স্বীকার করেননি বলে জানান কাউন্সিলর।

এ বিষয়ে মকসেদ আলীর নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন, তিনি ২৮ নং ওয়ার্ড (পূর্ব) আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি এই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কারা এই এলাকার সুবিধাভোগির তালিকা করেছেন এবং কে কে এই কমিটিতে আছেন সেগুলোও তিনি জানতেন না। পরে তাঁর নিকট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও একজন সাংবাদিক এসে বলেন, কারিতাস থেকে প্রদানকৃত প্রকল্পের নামে কমিটির লোকজন সুবিধাভোগিদের নিকট হতে প্রতারণা করে অনেক টাকা উত্তোলন করেছেন। এ বিষয়ে তাঁকে মিমাংশার কথা বলেন। কিন্তু এ সম্পর্কে কিছু না জানার কারনে তিনি এই ঝামেলায় জড়াতে চাননি বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারী মতিহার জোনের এডিসি তাঁকে ডেকে পাঠান এবং প্রকল্পের টাকা আত্মস্বাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একই কথা বলেন, বলে জানান মকসেদ আলী। তিনি আরো বলেন, আলমগীর হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারন আলমগীর অত্র ওয়ার্ডের (পূর্ব) সভাপতি হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখেছেন। সে কারনে জনগণ ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিকট তাঁকে খারাপ করার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।