নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশ্রামাগার ও রাজশাহী প্রবেশ তোরণ নির্মাণসহ ১০ দফা ইস্তেহার ঘোষণা করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর নানকিং কনভেনশন হলে তিনি তার এই নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেন।
ইস্তেহারে আখতার বলেন, রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে রাজশাহী জেলাতে প্রবেশের তিন দিকে তিনটি আকর্ষনীয় ‘প্রবেশ তোরণ’ নির্মাণ করা হবে। রাজশাহী জেলা পরিষদের অব্যবহৃত ভূমি জেলা তৃণমূলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। রাজশাহীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে বর্তমান প্রজন্মের জন্য রাজশাহী জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণ ও উপজেলা ভত্তিক গ্রন্থাগার রাজশাহী জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণের অগ্রণী ভূমিকা রাখা হবে। রাজশাহীতে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের জন্য রাজশাহী শহরে জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গাতে একটি আধুনিক আবাসিক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে।
এখানে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিগণ নামমাত্র মূল্যে বিশ্রাম ব্যবহার করতে পারবেন। জেলা পরিষদের উন্নয়নকাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামত অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রাজশাহীর প্রত্যেকটি উপজেলায় ডাকবাংলো থাকলেও সেগুলো প্রায় অব্যবহৃত থাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। যা রাজশাহী জেলা পরিষদের সম্পদ। এই ডাকবাংলাগুলোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়নের স্বার্থে করণীয় ঠিক করতে প্রতিবছর অন্তত দুই বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এর ব্যবস্থা করা হবে। রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা ও মাদক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার জন্য জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রী ছাউনী, সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হবে বলে ইস্তেহারে তিনি উল্লেখ করেন।
আখতার বলেন, আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২২ অনুষ্টিতব্য রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নির্বাচনে রাজশাহী জেলার নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলে তাঁর ঘোষিত ইস্তেহার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চর এলাকা প্রকৃত পক্ষেই অবহেলিত। তিনি নির্বাচিত হলে চরে অতিথিদের বসবাস করার জন্য ডরমেটরী স্থাপন ও যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে বলে জানান। সেইসাথে আদিবাসীদের উন্নয়ন ও দরিদ্র ও মেধাবীদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও জেলা পরিষদের নিয়ামানুযায়ী এবং বাজেট অনুযায়ী সেবা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।