নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসের ১৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর গণকপাড়া হতে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি নিয়ে তারা নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় গণকপাড়ায় এসে শেষ করেন। এরপর জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করার দাবীতে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গনেশ মার্ডি। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুর রহমান জামিল, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা রুলফাও এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সহ-সভাপতি রাজকুমার শাঁও, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সভাপতি উত্তম কুমার খালকো, সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস, সদস্য শ্যামল এক্কা ও রিবন হেম্ব্রম। এছাড়াও অন্যান আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত বক্তাগণ বলেন, সিধু-কানু দিবস, যা “হুল দিবস” নামেও পরিচিত। এটি সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে পালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, সিধু ও কানু মুর্মু নামক দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে সাঁওতালরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহের স্মরণে প্রতি বছর ৩০ জুন এই দিবসটি পালিত হয়।
তারা আরো বলেন, এই দিনে সিধু ও কানু মুর্মু (ভাই) এবং তাদের সহযোগী চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে প্রায় ১০,০০০ সাঁওতাল, ব্রিটিশদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। একে “সাঁওতাল হুল” বলা হয়। সাঁওতাল হুল ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের আদিবাসী বিদ্রোহগুলির মধ্যে একটি। সিধু ও কানু এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন। প্রতি বছর এই দিনে, সাঁওতাল সম্প্রদায় এবং অন্যান্যরা সিধু ও কানুকে শ্রদ্ধা জানায় এবং এই বিদ্রোহের গুরুত্ব মনে রাখে। তাদের নেতৃত্বে সাঁওতালরা কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু পরে ব্রিটিশরা বিদ্রোহ দমন করে। সিধু ও কানু দুজনেই শহীদ হয়েছিলেন, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের উপরে এখনো শোষন নিপিড়ন শেষ হয়নি। এখনো তাদের জমি জবর দখল ও জালিয়াতি হচ্ছে। চলছে অন্যায় ও অত্যাচার। সেইসাথে সরকার তাদের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে। কিন্তু আদিবাসী জনগণ তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি এবং আলাদা ভূমি কমিশন গঠন করার দাবী জানান বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।