নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আয়োজনে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুরোধা ও উন্নয়নের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী রাজশাহীতে পালিত হয়। এ লক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন নানা কমসূচী পালন করে। বুধবার সকাল ৯টায় মালোপাড়াস্থ্য বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী এশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল আলম শাফিক, বজলুর রহমান মন্টু ও জয়নাল আবেদিন শিবলী।
আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, স্বেচ্ছাসেবক কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ বীন তারেক, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর জাসাস এর আহবায়ক এ্যাডভোকেট রজব আলী, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা ও দপ্তর সম্পাদক শাহিনা আকতার রোজি।
এছাড়াও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার আলম বিপুল ও মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সৌরভসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
সভার সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কারনেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। তিনি যদি সেই দু:সময়ে স্বাধীনতার ঘোষনা না দিতেন এবং বাংলার মানুষকে একত্রিত না করতেন তাহলে এ দেশ স্বাধীন হতনা। তিনি নিজের জীবন এবং তাঁর পরিবারের কথা চিন্তা না করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। শুধু তাইনয় তিনি নিজ হাতে যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। সিপাহী-জনতা বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন এবং প্রেসিডেন্ট হয়ে দেশের হাল ধরেন।

তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ পরবর্তীতে দেশে কোন প্রকার গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ছিলোনা। দেশে তখন শুধু হাহাকার ও বাকশালীদের তান্ডব চলছিলো। তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে প্রথমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। এপর তিনি দেশের উন্নয়নে কৃষিতে বিশেষ নজর দেন। খাল খনন করেন। বিদেশ থেকে সেচ পাম্প আমদানী করাসহ কৃষিতে নানা ধরের প্রণোদনা ও ভুর্তুকী দিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটান। সেইসাথে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর জন্য গভীর নলকুপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন তিনি।
তিনি বলেন, এরপর দেশকে বিশোবর দরবারে পরিচিতি করে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছিলেন। সেইসাথে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি আদায়ে তিনি বহুদেশ ভ্রমন করা শুরু করেছিলেন। দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো ঠিক সে সময়ে দেশী বিদেশী চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত করে এই ক্ষণজন্মা মানুষটাকে হত্যা করেন। তাঁকে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশের উন্নয়ন থেমে যায় এবং গণতন্ত্র আবারও ভুলণ্ঠিত হয় বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বক্তব্য শেষে বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ সকল মৃত নেতৃবৃন্দ, ও অসুস্থ নেতাকর্মীর সুস্থতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।