নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজ ঘরেই পড়েছিল ৬৫ বছরের বৃদ্ধা গোলেজান বিবির গলাকাটা মরদেহ। স্থানীয়দের মাধ্যমে শনিবার সকালে সেই তথ্য পায় রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা পুলিশ। পরে মতিহারের বামনশিখর উত্তরপাড়া এলাকার ঐ বাড়ি থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল প্রতিবেদনের পর ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে তার মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত গোলেজান বিবি ঐ এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর স্ত্রী।
পুলিশ বলছে, শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা তার ঘরে ঢুকে গলা কেটে তাকে খুন করেছে। পরে ঘরের মধ্যেই মরদেহ ফেলে চলে গেছে। ঐ সময় ঘরে তিনি একাই ঘুমোচ্ছিলেন। তবে পাশের ঘরে তার ১১ বছরের নাতি শিমুল ঘুমিয়ে ছিল। ঘটনা সম্পর্কে শিমুলের কাছে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কী না তার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এজন্য তাকে ঐ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, তারা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রাথমিকভাবে এখনও কিছু বুঝে উঠতে পারেন নি। কেন এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ড সেই রহস্যে পৌঁছাতে একটু সময় লাগবে। তবে প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে। আপাততঃ ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাপারে থানায় হত্যামামলা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রফিকুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি এখনও ‘ক্লু-লেস’। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। মতিহার থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। শিগগিরই সব জানা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ঐ বাড়িতে ১১ বছরের নাতিকে নিয়ে থাকতেন গোলেজান বিবি। সে পাশের ঘরেই ছিল। তাই শিমুল কিছু দেখেছে কী না বা বুঝতে পেরেছে কী না পুলিশ তা জানার চেষ্টা করছে। এজন্য ঐ শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সে পাঁচ বছর বয়স থেকে তার দাদীর কাছে থাকে। গোলেজান বিবির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। তারা অন্যত্র থাকেন। তাদেরকেও খবর দেওয়া হয়েছে। সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ব্যাপারে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পার বলেও উল্লেখ করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।