নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি নানা আয়োজনে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া দিবস পালন করে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কারর বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামানিক, যোগেন্দ্রনাথ সরেন, চিত্তরঞ্জন সরদার, সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার ও কলেস্তিনা হাঁসদা। অত্র একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগীত প্রশিক্ষক কবীর আহম্মেদ বিন্দু ও নাটক প্রশিক্ষক লুবনা রশিদ সিদ্দিকা কবিতাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপস্থিত আলোচকবৃন্দ বেগম রোকেয়া’র শিক্ষা, পারিবারিক ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময়ে তাঁরা বলেন, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের পথিকৃত ছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত। তারা বলেন, বেগম রোকেয়া ১৮৮২২ সালের ৯ ডিসেম্বরর রংপুর জেলার পায়রাবন্দর গ্রামের এক মসুলিম সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। আবার একই মাসের একই দিনে ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণকরেন। তিনি যে সময়ে জন্মেছিলেন সে সময়ে ভারত বর্ষের নারীরা শিক্ষা দিক্ষায় অনেক পিছিয়ে ছিলেন। সে সময়ে নারী শিক্ষা মানে সোনার হরিণ ছিলো। বিশেষ করে মসুলিম নারীদের শিক্ষা মানে অনেক কিছু।

তারা আরো বলেন, বেগম রোকেয়া বাবা একজন শিক্ষিত ও বহুভাষাবিদ ছিলেন। তা সত্বেও তিনি নারী শিক্ষা বিদ্বেষী ছিলেন। এত কিছুর মধ্যেও বেগম রোকেয়া চুপি চুপি পালিয়ে লেখাপড়া করেন এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিদ্যালয় স্থাপন এবং নারীদের নিয়ে সংগঠন তৈরী করেন। সকল বাধা উপেক্ষা করে তিনি শিক্ষা গ্রহন করেছিলে বলে আজ নারীরা শিক্ষা দিক্ষায় এখন এত এগিয়ে। তিনি আজীবন মানুষের মনিকোটায় বেঁচে থাকবেন। আলোচকবৃন্দ বেগম আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বক্তব্য শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তাঁরা। শেষে একাডেমির শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।