নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি জেলা প্রশাসক কর্তৃক বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজকে লিজ দেয়া হয়েছিলো। সেই লিজের মেয়াদ ১৪৩১ সাল পর্যন্ত ছিলো। এখন ১৪৩২ সাল। সে অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষের লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলে নেয়ার জন্য হুমকী দেয়া শুরু করেছে। অত্র জমির তপশিল হচ্ছে রাজশাহী জেলার উপজেলা- পবা, মৌজা: মির্জাপুর, জেএল নং- ১৫০, এস.এ খতিয়ান নং- ৩৮৭, আর.এস খতিয়ান-১০, সাবেক দাগ নং- ২১৪, আর.এস দাং নং-১৭৪, রকম ধানী, পরিমান .৭৫ একরের কাত ২৬৪০একর বলে উল্লেখ করেন মৃত ফকির মন্ডলের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন।
তোফাজ্জল আরো বলেন, এই জমি তাঁর বাবা মৃত মোহাম্মদ ফকির মন্ডল ও মাতা মৃত খেলেজান বেগম জীবিত থাকাকালীন ক্রয় করেন এবং নিজ নিজ নামে খাজনা-খারিজ করেন। সেইসাথে হোল্ডিং নম্বর খোলা হয়। বোয়ালিয়া সেরেস্তায় ১৭৮/৯-১/৯১-৯২ নং খারিজ কেসের মাধ্যমে ৩৯৫ নং প্রস্তাবিত খতিয়ান মূলে ৫৫০ নং হোল্ডিং। তিনি বাংলা ১৪০৮ সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করেন।
তোফাজ্জল বলেন, অত্র সম্পত্তি বোয়ালিয়া সেরস্তের ২১৭৭/৯-১/৯৮-৯৯ খারিজ কেস মূলে ৮০৭ নং প্রস্তাবিত খতিয়ানে নিজ নামে লিপিবদ্ধ করে ৯৩৯নং জমা বন্দিতে বাংলা ১৪১৫ সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করেন। তিনি আরো বলেন, প্রজা অবনী কুমার দিং এর নিকট হতে উক্ত দাগের ০.০৬৬০ একর সম্পত্তি মালিক হন মোহাম্মদ ফকিরমন্ডল। সেই মোতাবেক বোয়ালিয়া সেরেস্তায় ১০৫৩/৯-১/৮৩-৮৪নং খারিজ মূলে ৭৪৬ নং প্রস্তাবিত খতিয়ানে নিজ নামে লিপিবদ্ধ করত: ৮৭৮ নং জমা বন্দি মূলে খাজনাদি আদান করেন।
তিনি বলেন, গত ০২-১২-৯৮ইং তারিখে রাজশাহী সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত ১৩৯৯০ নং বিক্রয় কবলা দলিল মূলে আরএস রেকর্ডিয় প্রজা শ্রী অবনি কুমার সরকার, অরুন কুমার সরকার ও অমল কুমার সরকারের, উভয়ের পিতা- মৃত অন্নদা কুমার সরকারের নিকট হতে উক্ত দাগে ০.১১৫৫ একর সম্পত্তির মালিক হন মোহাম্মদ ফকির মন্ডল, তুর্জেমা খাতুন ও মর্জিনা খাতুন। উক্ত সম্পত্তি বোয়ালিয়া সেরেস্তায় ২১৭৭/৯-১/৯৮-৯৯ নং খারিজ কেস মূলে ৮০৭ নং প্রস্তাবিত খতিয়ানে নিজ নাম লিপিবন্ধ করে ৯৩৯ নং জমা বন্দিতে বাংলা ১৪১৫ সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করেন। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর ওয়ারিশগণ ভোগদখল করছেন। সেখানে চারতলা ভবন এবং টিনসেড ঘরবাড়ী রয়েছে। সেগুলোকে ছাত্র মেস করা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এত কিছুর পরেও তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল নেয়ার জন্য প্রায়শই হুমকী দিয়ে আসছে অত্র কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৪এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১৫-২০জন মিলে এসে জায়গা দখলের হুমকী দেন। সেইসাথে মেস ফাঁকা করার কথা বলে। না হলে সব বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকী দেয় বলে জানান তোফাজ্জল। তিনি আরো বলেন, এই সম্পত্তি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। যার নম্বর -১৭৬/১২। মামলা চলমান অবস্থাতেও ডিসি তাদের সম্পত্তি অত্র কলেজকে অবৈধভাবে লিজ প্রদান করায় এলাকায় চরম বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি নতুন করে অত্র কলেজকে উক্ত সম্পত্তি লিজ না দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।
বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারোয়ার জাহান এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোফাজ্জলকে কোন প্রকার হুমকী ধামকী দেয়া হয়নি। তাঁকে ঐ জমি সম্পর্কে জানার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিলো মাত্র। তিনি বলেন, এটা এনিমি পোপার্টি হিসেবে সরকারের নিকট হতে ১৯৯৪ সালে মোট ৫৬ শতক জমি কলেজের জন্য লিজ নেয়া হয়। আর এর জন্য সরকারকে প্রতিবছর এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা করে প্রদান করতে হয়। তিনি আরো বলেন, তোফাজ্জলকে বার বার জমির বৈধ কাগজ দেখাতে বললেও তিনি দেখাতে পারেননি। তাদের লিজ চলমাল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।