নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উদ্যোগে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ। গতকাল সোমবার (৩ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় রাজশাহী পুলিশ লাইনসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তার সাথে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি আরএমপির নবনির্মিত মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি, তালাইমারী পুলিশ ফাঁড়ি, রেশন স্টোর ভবন উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) জয়দেব কুমার ভদ্র, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) রশীদুল হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) সাজিদ হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ আরএমপি ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রাজশাহী পুলিশ লাইনসে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে এদেশের পুলিশ বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিল। যা রাজশাহীতে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। এ প্রতিরোধ যুদ্ধে কমপক্ষে ১৭ জন পুলিশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শাহাদাতবরণকারী আরও ছয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যসহ ২৩ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গণকবরে সমাহিত করা হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও হৃদয়ে লালনের জন্য এই মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়- ৫ হাজার ৬৪০ বর্গফুটের দ্বিতল বিশিষ্ট রেশন স্টোর ভবনটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৯২ টাকা ও ২ হাজার ২৯২ দশমিক ৯০ বর্গফুটের ছয় তলা বিশিষ্ট মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ভবনটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ হাজার ৭৭৪ স্কয়ার ফিটের ছয়তলা বিশিষ্ট তালাইমারী ফাঁড়ি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩২ টাকা।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক)’ উদ্যোগে গৃহীন নারীকে ঘর প্রদান, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-আইজিপি পত্নী জীশান মির্জা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআইজ পত্নী নূরজাহান আক্তার হীরা, পুলিশ সুপারের সহধর্মীনি জেনিফার রেবেকা উপস্থিত ছিলন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনারের পত্নীলায়লা পারভেজ টপি।
এদিকে দুপুর আড়াইটা থেকে পুলিশ লাইনসে পুলিশ সমাবেশ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।