নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), সভানেত্রী জীশান মীর্জার মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। রাজশাহী’র শরবত বিক্রেতা পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী সাদেকুল ফুড পান্ডার খাবার সরবরাহের জন্য সাইকেল, হেলমেট ও মোবাইল ফোন প্রদান করেন তারা। সাদেকুল গোদাগাড়ী থানার পশ্চিম বামনাইল গ্রামের জার্সিস আলীর ছেলে।
আজ রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় আরএমপি সদরদপ্তরে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি, আরএমপি কর্তৃক আয়োজিত সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর সহ-ধর্মিণী জীশান মীর্জা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।
প্রসঙ্গত ‘শরবত বিক্রির ফাঁকে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি” শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি’র সভানেত্রী জীশান মীর্জার নজরে আসে। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, সাদেকুলের বিষয়ে খোঁজ খবর শুরু করে।
আরএমপি ডিবি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ দৈনিক প্রথম আলো রাজশাহী’র নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদের সাথে যোগাযোগ করে সাদেকুল ইসলামকে খুঁজে বের করেন। তিনি জানতে পারেন সাদেকুল খুবই পরিশ্রমী ও মেধাবী। রাজশাহী শহরে থেকে তিনি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেন। হাফেজিয়া শেষ করার পর টিউশনির পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন তিনি।
নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় বসবাস করার সময় নওগাঁর কয়েকজনকে ভ্যানগাড়িতে করে শরবতের ব্যবসা করতে দেখে তার এ পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তাদের নিকট থেকে শরবত বিক্রয়ের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সাদেকুল। গরমের সময় রাজশাহীতে শরবতের বেশ চাহিদা থাকলেও শীতের সময় চাহিদা না থাকায় তিনি ফুড পান্ডায় যোগ দেন।
সাদেকুল ১১ ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তিনি নগরীর উপর ভদ্রা এলাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে না পেরে সে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে। ২০২০ সালে তিনি আলিম পাস করেন। এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি দুই পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পান।
পরিবারের আর্থিক সংগতি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে গরমের মৌসুমে রাজশাহী রেলস্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমান ভ্যান নিয়ে শরবত বিক্রি করে আসছেন। এতে যে আয় হয়, তা দিয়েই মূলত তার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করার পাশাপাশি তার পিতা-মাতাকে সহায়তা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী সিটি কলেজে রাস্ট্রবিজ্ঞান (সম্মান) এ ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সাইকেল ও মোবাইল ফোন পেয়ে সাদেকুল ইসলাম অত্যন্ত খুশি। উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহায়তার হাত প্রসারিত করায় সাদেকুল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) এর সভানেত্রী জীশান মীর্জা ও আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
পুনাক পুলিশ পরিবারের একটি সংগঠন হলেও বর্তমান সভানেত্রীর নেতৃত্বে নিজেদের গণ্ডি পেড়িয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। লকডাউন পরিস্থিতে গরিব, অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, পায়ে পঁচন অবস্থায় অবচেতন ব্যক্তি খোকনকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে বয়স্ক পূনঃবাসন কেন্দ্রে পাঠানো, নদী ভাঙ্গনে সব হারানো মানুষদের কবরস্থান করে দেয়া, সংগ্রামী নারী ফাতেমার কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও সেলাই মেশিন প্রদান করেন এই সংগঠন।
এছাড়াও দরিদ্র রিক্সা-ভ্যান চালক ও ফেরিওয়ালাদের মাঝে রেইনকোর্ট বিতরণ করেন। সবুজায়নের লক্ষে সারাদেশ ব্যাপি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করাসহ সুস্থ্য জীবন চর্চার নিমিত্বে খেলাধুলা আয়োজন করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পুনাকের।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মজিদ আলী বিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) রশীদুল হাসান পিপিএম ও বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব এ এফ এম আনজুমান কালাম, বিপিএম-বার সহ আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।