সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর অভিযান অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার আটক:তিন

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৪১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীর একটি বাড়িতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরি সরঞ্জাম উদ্ধার সহ তিনজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার রাত ১.৩০টার দিক থেকে নগরীর কাঁদিরগঞ্জ এলাকার ডক্টর ইংলিশ নামের ঐ প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে রাখেন সেনাবাহিনীর ৪০ ইস্ট বেঙ্গল এর একটি দল। সেনাবাহিনীর সূত্র বলছেন, ডক্টরস ইংলিশ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোন্তাসেবুল আলম আনিন্দো, যিনি স্থানীয়ভাবে একজন ইংরেজি শিক্ষক এবং ডক্টর ইংলিশ নামক কোচিং সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও রবিন এবং ফয়সাল নামে দুইজন ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় করেছেন সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর দেয়া প্রসে বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে অভিযানে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি, সামরিক মানের দূরবীন ও স্নাইপার স্কোপ, ৬ টি দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি ৭ টি ধারালো ডেগার, টি উন্নতমানের ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস,একটি টিজার গান, বিভিন্ন দেশী ও বিদেশি কার্টিজ,বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বিস্ফোরক বোমা বানানোর সরঞ্জামাদি, টি কম্পিউটার সেট, নগদ ক্যাশ টাকা (৭,৪৪৫ টাকা), বিভিন্ন দেশী বিদেশি মদ, ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ (বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত তাজা সামগ্রী হওয়ায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্বারা নিস্ক্রিয় করা হয়েছে)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের ভাতিজা। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জঙ্গি সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ ওঠার পরও অনিন্দ্য রেহাই পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরও তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযানের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অভিযান চলাকালে অনিন্দ্য সেনাবাহিনীকে জানান, একটি অস্ত্র তিনি পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও অস্ত্রটি পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ড ও একই বছরের জুলাইয়ে গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অনিন্দ্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি ওই দুটি মামলা থেকে রেহাই পান।

এ দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জঙ্গি শরিফুল ইসলামও অনিন্দ্যের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করতেন। গ্রেপ্তারের পর শরিফুল গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন, তিনি অনিন্দ্যের মাধ্যমেই আনসার-আল ইসলামে যোগ দিয়েছিলেন। অনিন্দ্য তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হবে। আটকরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল-সে সম্পর্কিত মামলাতেও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের সাধারণ অপরাধী মনে হচ্ছে না। তাদের পরিকল্পনা কী ছিল এবং আর কারও সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা রিমান্ডে নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য রাজশাহীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাসেরুল আলম অনিন্দ্য (৩৩) রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলা থেকে রাজনৈতিক প্রভাবে রেহাই পেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তিনি পার পেয়ে গিয়েছিলেন।

শনিবার ভোর থেকে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনজনকেই কোচিং সেন্টার থেকে থানায় নেওয়া হয়।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin