নিজস্ব প্রতিবেদক: চলাত মাসের ১১ তারিখ দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ী ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন পাকড়ী আওয়ামী লীগের সদস্য জালাল উদ্দীন মাস্টার। তিনি রাতদিন মাঠে নেমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে তাঁর ব্যস্ততাও বেড়ে যাচ্ছে।
প্রচারনার সময় প্রার্থীর সাথে ছিলেন সমাজসেবক ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আব্দুল আলিম, বিপ্লব বাস্কী, আবু সাদ, মফিজুল ইসলাম ও শাহিন সরকারসহ শত শত দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটার এবং সাধারণ জনগণ। জালাল আজ মঙ্গলবার পাকড়ী বাজারসহ অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণা করেন। এ সময়ে অত্র এলাকায় উৎসবে পরিণত হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নৌকার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। সেইসাথে নৌকায় ভোট প্রদান করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করার আহবান জানান তারা।
পাকড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি উল্লেখ করে স্থানীয় জনগণ বলেন, নৌকার বিজয় কেউ রুখতে পারবেনা। আর এবারের প্রার্থী একজন শিক্ষিত ও মাস্টার মানুষ। তার দ্বাারা এলাকার কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই। শুধু তাই নয় জালাল চলতি মেয়াদে একটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হলেও তিনি পুরো ইউনিয়ন পরিচালনা করেছেন। কারন বর্তমান চেয়ারম্যান বহু দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ায় এক সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বহিস্কার হন। তার নামে নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে বিধায় দল তাকে এবার মনোনয়ন দেননি বলে জানান তারা। তারা আরো বলেন, তিনি শুধু ইউপি সদস্যই নন। তিনি তিন মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়নবাসীর জন্য কি করবেন জানতে চাইলে প্রার্থী জালাল বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে সকল স্থানে তাঁর উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষা সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়াও ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডেও উন্নয়নের জন্য তিনি সহযোগিতা করে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, পাকড়ী ইউনিয়নের দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ইউনিয়নবাসী তাঁকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে আশাব্যক্ত করেন।
নির্বাচিত হলে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা। নতুন রাস্তা করণ এবং রাস্তা সংস্কার ও এইচবিবি করণসহ নানাবিধ উন্নয়ন মূলক কাজ করবেন তিনি। যদিও এই ধরনের কাজ তিনি ইতোমধ্যে অনেক করেছেন। এছাড়াও উপযুক্ত সকল ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে নিয়ে আসা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ রোধ ও আদিবাসীদের জন্য বিশেষ বাজেট প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে তার নিজ ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডবাসী বলেন, জালাল মেম্বর হওয়ার পর থেকে তাঁর নিজ ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও মাদকের ব্যবসা বন্ধে কাজ করেছেন। এছাড়াও পুরো পাকড়ী ইউনিয়ন এলাকায় মানুষের সমস্যা তিনি সালিশ ও সমঝোতার মাধ্যমে দুর করেছেন। যার বিনিময়ে তিনি কোন প্রকার উৎকোচ বা অর্থ লেনদেন করেন না। সম্পূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করে চলছেন বলে জানান সাধারণ জনগণ। তারা সবাই আসছে নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন।