মেধাবী শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকার ‘এফ রহমান গোল্ড মেডেল’ দেওয়ার ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভূমিমন্ত্রীর প্রয়াত পিতা ফজলুর রহমান (এফ রহমান)-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ লক্ষ টাকার একটি স্থায়ী তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। এই তহবিল থেকে প্রতি বছর একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘এফ রহমান গোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
সোমবার আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। সকালে দিবসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। উদ্বোধন শেষে ভূমিমন্ত্রীর নেতৃত্বে হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস জুড়ে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেট ভবনে এসে শেষ হয়। পরে বৃক্ষরোপণ শেষে সিনেট ভবনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ভূমিমন্ত্রী।
ভূমিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাদার বখশসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গকারী শহিদ ড. জোহার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ড. জোহার আত্মত্যাগ সারা বিশ্বের শিক্ষক সমাজের জন্য এক অনন্য মর্যাদার প্রতীক হয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো ও ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি ‘বড়কুঠি’ ভবনটি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকারে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবনটিকে আধুনিক লাইট এন্ড সাউন্ড সিস্টেমসহ একটি বিশ্বমানের মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান ও যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বা ফুটবলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আধিপত্য ছিল, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী এবং মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রাফিকুল ইসলাম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম ও অধ্যাপক ড. মানুনুর রশীদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ্য আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। সোমবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি পালন করা হয়। সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফরিদুল ইসলাম এবং সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেন।