নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলমানদের জন্য বোরবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রোমজান মাস। একমাস ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনে সিয়াম সাধনা ও দিন-রাত নানা ধরনের ইবাদত বন্দিগী করে থাকেন। মানুষ সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় সাধ্যমত বিভিন্ন ধরনের ফল ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে ভালবাসেন। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রে রোজা উপলক্ষে নিত্যপন্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে এর চিত্র সম্পূর্ন উল্টো। এখানে রোজায় সব ধরনের পন্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পায়। এর পরিক্রমা এবারও লক্ষ করা গেছে।
রোববার সাহেব বাজার, কোর্ট ও শালবাগান বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি ফলের মূল্য ১০-৫০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন তরমুজের দাম গত শনিবার ছিলো ৩৫-৪০টাকা কেজি। রোজার প্রথম দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫-৫০টাকা কেজিতে। আপেল ১৮০টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০টাকা, বাসপাতি ২১০ থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৪০টাকায়, খেজুর গত বছরের তুলনায় এবার কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০-৫০টাকা। রোববার সাহেব বাজারে ১৮০- ৭৫০ কেজি দরে খেজুর বিক্রি করতে দেখা যায়।
শুধু তাই নয় কমলা ২০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়ছে ২৪০টাকায়, মালটা বিক্রি হচ্ছে ১৮০টাকা কেজি দ্বরে। বেদানা ৩০০ থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০টাকা কেজি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাহেব বাজারের ফল ব্যবসায়ী রাব্বি। তারা তিনভাই মিলে একটি ফলের দোকান পরিচালনা করছেন। এদিকে তরমুজ বিক্রেতারা বলেন, হঠাৎ করে শনিবার তরমুজে নতুন চালানে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের বর্ধিত মূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে ফল ক্রেতা পলাশ, রুবেল, আবুল কাশেম, তোফাজ্জল, নাদিরা, উম্মে কুলসুম ও কেয়াসহ আরো অনেকে বলেন, একদিকে রোজায় সকল পন্যের মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধিতে জনগণের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। সাধারণভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। এরমধ্যে শুরু হয়েছে রোজা। সারাদিন রোজা রাখার পরেতো আর ডাল ভাত খেয়ে ইফতার করা যায়না। সেজন্য পরিবারের সদস্যদের জন্য একটু ফল নিতে এসে আহম্মক সেজে গেছেন। প্রতিটি ফলের মূল্য ২০-৫০টাকা কেজিতে বেড়ে গেছে। এ অবস্থা হলে রোজা রেখে ইফতার করা শুধু পানি ছাড়া আর কোন উপায় নাই। মূল বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তারা।