নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুরোধা ও উন্নয়নের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে আলোচনা সভা ও দোয়যা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২১ জানুয়ারী-২০২২) বিকেলে নগরীর সাগরপাড়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী বোয়ালিয়া থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়ার ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, মহানগর বিএনপি’র সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মুরাদ পারভেজ এলান, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন দিলদার, মতিহার থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক খাজদার আলী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা ও মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন।

উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল হক হারু, সাবেক আহবায়ক ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের বকুল, বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হুসনা ফেরদৌসী ও মনোয়ারা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জনিরা খাতুনসহ অত্র থানার সকল ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, আহবায়ক, যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন নির্ভিক বীরসেনা। তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাকিস্তানী আর্মি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের এসেছিলেন দেশকে ও দেশের জনগণকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা করতে। তিনি সে সময়ে নিজের পরিবারের কথা ভাবেননি। অথচ এখন যারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলে গলাবাজি করে, আসলে তাঁরা সে সময়ে কেউ দেশে ছিলেন না। তাঁরা সকলেই ভারতের বিলাসবহুল হোটেলে আরাম আয়েশে দিন কাটিয়েছেন।

কিন্তু দেশের সেই ক্রান্তিকালে দেশকে স্বাধীন করার অভিপ্রায়ে জীবনবাজি রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর ডাকেই দেশের আপামর জনসাধারণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেন। সেজন্য তাঁকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করা হয়। অথচ বিনা ভোটের এই সরকার তাঁর খেতাব বাতিল করতে নানা প্রকার তালবাহানা করছে। এটা কখনো মেনে নেবেনা বিএনপি। তিনি আরো বলেন, দেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারাত্বক অসুস্থ্য। তাঁর যেকোন সময়ে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
তাঁর এই অবস্থা নিয়ে বর্তমান সরকার নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। তাঁকে বিদেশে নিয়ে এই অবৈধ সরকার চিকিৎসা করতে দিচ্ছেনা। তাঁকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রেখেছে। সরকারের এই কারাগার ভেঙ্গে বেগম জিয়াকে বের করে নিয়ে আসতে হবে এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান প্রধান অতিথি।
শেষে বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ সকল মৃত নেতৃবৃন্দ, ও অসুস্থ নেতাকর্মীর সুস্থতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।