নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক দল অন্তর্ভুক্ত ব্যাংক পেশাজীবী সংগঠন সিবিএ’র সদ্য বিলুপ্ত কমিটি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পুনর্বাসিত কমিটি বাতিল চেয়ে পূর্বের কমিটি বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ৩ টায় রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর মোড়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক দল অন্তর্ভুক্ত ব্যাংক পেশাজীবী সংগঠন সিবিএ’র (বি-৬৬৪) সদ্য সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব। তিনি বলেন, মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে কোন কারণ ব্যতিরেকেই তাদের কমিটি সোনালী ব্যাংক পিএলসি সিবিএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন আকস্মিক এবং অনাকাংখিতভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তার এই ধরনের কর্মকান্ডে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে বর্তমান কমিটি বাতিল ঘোষণা করে পূর্বের কমিটি বহাল রাখার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির কাছে আবেদন জানান।
তিনি আরো উল্লেখ করেন দীর্ঘ চাকুরি জীবনে তিনি বরাবরই বিএনপির পেশাজীবী ও শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে তার কমিটি কোন প্ররোচনায় এবং কিসের স্বার্থে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো তা জানতে চান। তিনি আরো উল্লেখ করেন শুধুমাত্র তার কমিটি রক্ষার জন্য নয় বর্তমান কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের বিএনপিতে পুনর্বাসন এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানো আর বিএনপি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য।
কেন বর্তমান কমিটি বাতিল করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিতে ২৬ জন খন্ডকালীন কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী কর্মচারী ব্যতীত কেউ কমিটিতে স্থান পাবে না। তাই তাদেরকে স্থায়ী কর্মচারীর ভুয়া পদবী দিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা ব্যাংক আইনের পরিপন্থী এবং কমিটির নামে প্রহসন। বর্তমান কমিটির মধ্যে ৫ জন বিগত স্বৈরাচারী হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে ব্যাংকের বিভিন্ন বদলী বাণিজ্য, অসদাচরণ, অর্থের বিনিময়ে সুযোগ-সুবিধা প্রদান, চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন আওয়ামী সমর্থক ব্যবসায়ীদেরকে যোগ্যতার চেয়ে অধিক পরিমাণ লোন সুবিধা পাইয়ে দেয়ার মত জঘন্য কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল।
এদের মধ্যে অন্যতম আব্দুল আউয়াল’কে বর্তমান কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এই আওয়ালকে বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আওয়ামী দোসর হিসেবে পাবনায় বদলি করা হয়েছিল । কিন্তু সিবিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন কিসের স্বার্থে তাকে সভাপতি করে পুনরায় জিএম অফিস, রাজশাহীতে বদলি করে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বহাল এবং বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ করে দিলেন তার ব্যাখ্যা তিনি জানতে চান। “কোন আওয়ামী লীগ দোসরকে বিএনপিতে জায়গা দেওয়া হবে না” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এমন ঘোষণার পরেও এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি’র দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপের জোরালো দাবি জানান।
অপরদিকে অত্র কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খন্ডকালীন সুইপার নরেশকে দেওয়া হয়েছে যা নিয়ে সোনালী ব্যাংকের মত একটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং বিএনপি’র দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তারা মনে করে। কথিত আছে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সিবিএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন এই দুইজনকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি প্রদান করে যা ঘৃণাভরে আমরা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
সেইসাথে কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে পূর্বের কমিটি পুনর্বহাল করার জোর দাবি জানান। এছাড়াও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় সিবিএ বি-৬৬৪ কর্তৃপক্ষ, রাজশাহীর স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির নিকট আওয়ামী দোসরদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশ এবং পুনর্বহাল রোধ করা যা বিএনপির সাথে সাথে ব্যাংকের ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারীদের শাস্তির আওতায় এনে বর্তমান কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে পূর্বের কমিটি পুনর্বহাল রাখার জন্য দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেইসাথে বিএনপিতে আওয়ামী দোসরদের অনুপ্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
এ সময় সোনালী ব্যাংক পিএলসি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক দল অন্তর্ভুক্ত ব্যাংক পেশাজীবী সংগঠন সিবিএ’র (বি-৬৬৪) সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম আলী,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এরশাদ আলী পল্টু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।