নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আলাউদ্দিন (৬৬) নামে এক ব্যক্তি পড়ে গিয়ে আকর্ষিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি———রাজিউন)। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন রাজশাহী নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ের আগে ঈদের নামাজ পড়ানোর জন্য ইমাম নিয়োগের বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় আলাউদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে বাড়িতে ফেরাতে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে কাছাকাছি স্থানে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় । এছাড়া বিএনপি কর্মী ওমর ফারুক ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবু হেনার বাড়িঘর ভাঙচুর এবং সাঁকোয়া বাকশৈল এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এটিএম মাইনুল ইসলাম। প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল শুরু হয়। এবিষয়ে গনমাধ্যমকে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল জানান, নিহত আলাউদ্দিন তাদের দলের একজন কর্মী ছিলেন।
এদিকে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ বলেন, জামায়াতের নেতা কর্মীদের হামলায় বিএনপি পার্টি অফিসে আগুন, বাড়িঘর ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মেডিকেল এ ভর্তি করা হয়েছে।
মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি এসএম মঈনুদ্দীন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হযেছে। কোন পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।