নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন বিএনপি নেতা কামরুল মনির। তিনি এই রাজশাহী শহরে বড় হয়েছেন। এই শহরের প্রতিটি ইট, রাস্তা ও গাছপালা থেকে সবার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিলো সুদৃঢ়। ছোট বেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ও পেরোপোকারী ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনায় উদ্বুদ্ধ হতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রানের মায়া ত্যাগ করে ঝাপিয়ে পড়েন। স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব অর্জন করেন।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে দেশ গড়ার কারীগর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী দলে যুক্ত হন। এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি একাধারে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপোশহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শুধু তাই নয় তিনি রাজনীতির পাশাপাশি আইন বিভাগে লেখাপড়া করেন। লেখাপড়া শেষে রাজশাহী জজ কোর্টে তিনি আইন পেশা শুরু করেন। এক সময়ে তিনি রাজশাহী জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের সাবেক সভাপতি ছিলেন। শুধু তাই নয় এই নেতা উত্তর জনপদ থেকে প্রকাশিত প্রথম শ্রেণির একমাত্র জাতীয় পত্রিকা, দৈনিক বার্তার দৈনিক বার্তার সাবেক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি দীর্ঘদিন থেকে ফুসফুসের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে জনগণের সেবা করে যান। তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা বলেন, কোন মামলা তাদের নামে হলে আর তাঁর নিকট গেলে তিনি কোন ফি নিতেন না। শুধু তাই নয় তিনি বহু লোককে বিনা অর্থে আইনী সেবা প্রদান করেছেন। এজন্যও তিনি অনেক ব্যক্তি ও ওকালত পাড়ায় পরোপোকারী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে একাধিক আইনজীবী জনান। বর্ষীয়ান এই নেতা ২০২১ সালের ১৮ জুন ৭১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করে চিরদিনের জন্য পরোপারে চলে যান।
এদিকে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রবীন নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা যখন রাজনীতি শুরু করেন, সে সময়ে রাজনীতিতে সহনশীলতা ছিলো। ছিলো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। যা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট কামরুল মনির এর মধ্যে ছিলো। ভীন্নমতের রাজনীতিবিদ হলেও একসাথে তাদের পথচলা ছিলো। এক কথায় তিনি একজন অতি নম্্র ও ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ ও ব্যক্তি ছিলেন বলে তারা মন্তব্য করেন। সেইসাথে এই বর্ষীয়ান নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।