সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

এগারো দফা দাবীতে ইজিবাইক শ্রমিক দলের স্মারকলিপি প্রদান

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে এখন ট্রাফিক পুলিশ কোনো অটোরিকশা ধরলেই চালকদের জরিমানা গুণতে হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ টাকা। আগে এই জরিমানা ছিল ৩০০ টাকা। অটোরিকশার চালকেরা বলছেন, এখন যে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে তা তাদের আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এই জরিমানার টাকা কমানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চালকেরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

এছাড়া জরিমানা কমানোসহ ১১ দফা দাবিতে তারা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দলের রাজশাহী মহানগর শাখার ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। ট্রাফিক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অটোরিকশা চালকেরা তাদের দাবি নিয়ে নানা শ্লোগান দেন।

চালকেরা জানান, শহরে এখন দুই শিফটে অটোরিকশা চলে। সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সবুজ রঙের অটোরিকশা চলে। পরের শিফটে চলে মেরুন রঙের অটোরিকশা। গ্রাম থেকে অনেক অটোরিকশা হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসেন। কখনও কখনও শহর থেকে বের হওয়ার আগেই শিফট পরিবর্তন হয়ে যায়। এ জন্য তাদের গাড়ি জব্দ করে ২ হাজার ৬০০ টাকার মামলা দেওয়া হয়। এর ফলে একজন অটোরিকশা চালকের সারাদিন আয়-উপার্জন বন্ধ থাকে।

তারা আরও জানান, সার্জেন্ট গাড়ি জব্দ করার পরদিন জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার পর তারা গাড়ি ফেরত পান। একই কারণে পরবর্তীতে অটোরিকশা জব্দ হলে তখন জরিমানা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার টাকা। আর তৃতীয়বারের ক্ষেত্রে জরিমানা হয় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এই টাকা জরিমানা দেওয়ার সামর্থ অটোরিকশা চালকদের নেই। তারা এ জরিমানা মানেন না।

বিক্ষোভ চলাকালে জাতীয়তাবাদী ইজিবাইক শ্রমিক দলের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমান জরিমানা ২৬০০ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এটি চালকদের সাপ্তাহিক আয়ের চেয়েও বেশি। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেই এ জরিমানা ছিল ৩০০ টাকা। এখন সেটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা হতে পারে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে গাড়ি জব্দ হলে তা রেখে দিয়ে ভিক্ষা করতে বসতে হবে।’

সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘তারা মোট ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন। ১১ দফা দাবি কোনো বাড়তি সুযোগ নয়। এগুলো চালকদের ন্যায্য অধিকার। অযৌক্তিক জরিমানা, গাড়ি ডাম্পিং ও হয়রানির কারণে হাজারো পরিবার আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, চালকদের জন্য সহনশীল জরিমানা, নির্দিষ্ট পার্কিং এবং নিবন্ধিত গাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত হোক।’

চালকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ, হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি, নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ; নিবন্ধিত গাড়ির সুরক্ষা ও অনিবন্ধিত গাড়িকে আইনের আওতায় আনা, নকশা অনুযায়ী নিরাপদ গাড়ি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একক নীতিমালা, টাইম ওভার মামলার পুনর্বিবেচনা, চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও মাসিক সমন্বয় সভা আয়োজন।

বিক্ষোভ চলাকালে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি গগণ কুমার রায়, শাহ আলম, অনু, যুগ্ম আহবায়ক হামিদ, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর ও প্রচার সম্পাদক রাসেলসহ অন্যান্য ইজিবাইকবৃন্ধ। দাবি না মানলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সফটওয়্যারে অটোমেটিক জরিমানা ধার্য্য হয়। এটা সেখানে কমানোর সুযোগ নেই। তবে কোনো চালক তার নিকট আসলে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সেটা বিবেচনা করা হয়। বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স থাকলে ২ হাজার ৬০০ টাকার জরিমানা আমি ৬৫০ টাকা করে দেই।’

তিনি বলেন, ‘চালকেরা আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো ট্রাফিক বিভাগের একার বিষয় না। সিটি কর্পোরেশনও আছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৩০০টাকার বিষয়ে তিনি বলেন এই টাকা সম্পুর্ন অবৈধভাবে পূর্বে নেয়া হতো। এই টাকা সরকারী কোন খাতেই যেতনা। পতিত সরকারের আমলে ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু সদস্য এবং মিডিয়ার কিছু লোকজনও এই টাকার ভাগ খেত।

তিনি আসার পরে এটা সম্পূর্ন রুপে বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে ইজিবাইক ও অটোরিক্সার প্রায় পনের হাজার লাইসেন্স রয়েছে। অথচ এই শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চল্লিশ হাজার অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চলে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ ট্রাফিক আইন মানেনা বা জানেনা। এদের নিয়ে তিনি প্রশিক্ষণ প্রদান করার কথা বলেন। আর এই কাজে ইজিবাইক, অটোরিক্্রা সমিতি বা কমিটির নেতৃবৃন্দদের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin