নিজস্ব প্রতিবেদক: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীন এর স্বজনপ্রীতি, কলেজের অর্থ আত্মস্বাৎ ও সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রোববার কাকনহাট এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধনের খবর দৈনিক বার্তা ও ডেইলি সুপ্রভাত রাজশাহীসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল হান্নান ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার লিখিতভাবে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেন।
নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন উপযুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, গভর্ণিং বডির বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো অর্থ আত্মসাৎ জনিত নৈতিক স্খলন, ২০১৬ হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত টিউশন ফি বাবদ বার লক্ষ আটচল্লিশ হাজার দুই শত সাতান্ন টাকা কলেজ একাউন্টে জমা না দেওয়া, কলেজের এফডিআর এর লভ্যাংশ সহ প্রায় আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা সম্পূর্ণরূপে আত্মসাৎ, কলেজের আম বাগান লিজ বাবদ দুই লক্ষ টাকা কলেজ একাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ।
আরো অভিযোগ হলো অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দুই লক্ষ একাত্তর হাজার আট শত পঁচানকাই টাকার হিসাবে গড়মিল, কলেজের ক্লাসের জন্য প্রজেক্টর কেনা বাবদ প্রদত্ত নব্বই হাজার টাকা আত্মসাৎ করা, ডিগ্রী পর্যায়ের শিক্ষকদের নিকট থেকে গ্রহণ করা ছয় লক্ষ সাতাশি হাজার টাকা আত্মসাৎ করা। ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করা, কলেজের তহবিল হতে এক লক্ষ টাকা, সম্প্রতি তিনজন কর্মচারীকে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রদান করে পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ। এছাড়াও কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ স্ত্রীঃ তারিখ হতে অদ্যাবধি অনুপস্থিত থাকা।
উপরোক্ত অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানাতে আগামী সাত দিনের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশা দেয়া হয়েছে। জবাব না দিলে নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিয্যোগে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে তিনি প্রেরণ করেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।