নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ইসমাইল হোসেন হত্যা মামলার রায় গতকাল রোববার ঘোষনা করা হয়। রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক অনুপ কুমার এই রায় দেন। রায়ে পাঁচ আসামীকে যাবৎ জীবন কারাদন্ড ও দশ হাজার করে অর্থদন্ড করা হয়। এছাড়াও চারজনকে ছয় মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সেইসাথে আঠারজনকে এক মাসের করে কারাদন্ড এবং সাত জনকে বেকসুর খালাস প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি।
যাবৎজীবন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মালিগাছার জকিমুদ্দিন এর ছেলে অসীম রেজা (৩২) ও মোস্তাক আহম্মেদ ওরফে মেজরা (৩৫), মালীগাছার গোলাম মোস্তফার ছেলে শরীফ দুলাল ওরফে সেতু (৩৬), ধরমপুরের সামাদ শেখ এর ছেলে জাহির(৪৫) ও পালপুরের মৃত মাইনুলের ছেলে আবু সুফিয়ান (৫০)। ১০ বছরে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন, রায়হান আলী ছেলে মিনারুল ইসলাম ওরফে মিলন (৩৮)। সেইসাথে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এই অর্থ অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন বিচারক।
এদিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম সাজা প্রাপ্তরা হলেন, ধরমপুরের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে বুলবুল(৪৫), মৃত সাজাহানের ছেলে মীর কাশিম ওরফে সাহেব (৪৮), ধরমপুরের মৃত ইমাম মন্ডলের ছেলে লাভলু (৫০), মৃত সাজাহান আলীর ছেলে ভকত আলী( ৪২)।
এক মাসের কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, মালীগাছার মৃত লায়েব আলীর ছেলে মাসুম আকতার স্বাধীন(৪৩), পালপুরের আজাহারের ছেলে হিটলার (৩৫), পালপুরের গোলাম জিলানীর ছেলে গোলাম দোস্তগীর রানা (৩৮), মালিগাছার মৃত কায়েম উদ্দিন এর ছেলে বয়েন উদ্দিন বনাব(৪৫), ধরমপুরের শমসেরের ছেলে গোলাম নবী তিতু (৪২), মালিগাছার নাস্তার আলীর ছেলে সানাউল্লাহ (৩৫), পালপুরের সাইদুল ইসলামের ছেলে রনি আহম্মেদ(২৫), পালপুরের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৫৭), কাজীহাটার মোয়াজ্জেম আলীর ছেলে আকবার আলী (৪০), সোহরাব আলীর ছেলে মুক্তার আলী (৩০), মালিগাছা গ্রামের মৃত জকিম উদ্দিনের ছেলে সাকিম উদ্দিন (৫০), মালীগাছার রায়হান আলীর ছেলে বসির আহম্মেদ ওরফে বাবু ( ৩৪), ধরমপুর সরকার পাড়ার আল্লাম শেখ এর ছেলে ইউনুস আলী (৩২), মালীগাছার মৃত মনসুর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি (৪৩), ধরমপুরের মৃত আতাউর ওরফে আতা শাহ এর ছেলে আব্দুল মালেক শাহ (৫০), আব্দুল জব্বারের ছেলে মামুন হাসান মাইনাস(২৫), ধরমপুরের বাসির আলীর ছেলে টনিক(২৬) ও গড়ডাইং গ্রামের তসিরের ছেলে কালাম (১৯)।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন, মালিগাছা গ্রামের মৃত এনামুল হক সেন্টুর ছেলে ডালিম(৩৫), মালিগাছার জকিমুদ্দিন এর ছেলে সাখায়াত হোসেন (৪০),রায়হান আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৫), ভকত আলী ছেলে সিজাব (২০), পালপুরের গোলাম রাব্বানীর ছেলে ওমর ফারুক জিহাদী (৪০), কাজিহাটার ফজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল মালেক পান্না (৪০), পালপুরের ওমর আলীর ছেলে মিলন (২৮)।
রায়ের সময় বাদিপক্ষের এ্যাডভোকেট বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পিপি এন্তাজুল হক বাবু এবং জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের এপিপি ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এজাজুল হক মানু এবং আসামী পক্ষের এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এই রায়ে বাদিপক্ষ সন্তোষ্ট না হলেও আসামী পক্ষরা সন্তোষ্ট হয়েছেন। তবে যাবৎ জীবন, দশ বছর ও ছয় মাসের সাজা প্রাপ্তদের খালাসের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। আর যাদের এক মাসের কারাদন্ড হয়েছে তারা পূর্বেই একমাসের অধিক বা নিকটবর্তী সময়ে হাজত বাস করায় তারা আজ কিংবা আগামীকাল জেল থেকে বেড়িয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে এই রায় শোনার জন্য তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বিশেষ টাইব্যুনালের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। রায়ের পরে তিনি ইসমাইলের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন।
উল্লেখ্য গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহনের দিন ইসমাইল হোসেন নির্বাচনী সহিংসতায় বিএনপি জামায়াত কর্তৃক গুরুতর আহত হন। তার সাথে ছেলেও আহত হন। তাদের উভয়কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার ইসমাইলকে মৃত ঘোষনা করেন। এ নিয়ে নিহত ইসমাইলের স্ত্রী বিজলা বেগম গোদাগাড়ী থানার মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর -০২, তারিখ- ০২২-০১-২০১৯ ইং। ধারা ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড।