বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীতে কোরবানীর পশু উদ্বৃত্ত প্রায় নব্বই হাজার: জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা চাঁদা না দেওয়ায় আবাসন ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা: থানায় অভিযোগ রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কসমেটিকস বিক্রি করায় জরিমানা রাজশাহীতে খাল খননে ৫০ শতাংশ অগ্রগতি: জেলা প্রশাসক একজন কাজ পাগল মানুষ পবা-মোহনপুরের এমপি মিলন রাসিক ১৬নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর বেলাল আহমেদের মায়ের ইন্তেকাল রাজশাহীতে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজশাহীতে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে রিপ্রেজেনন্টেটিভ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

চারঘাটে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ২৭ কিমি খাল, পরিবেশ ও জীবিকার জন্য উদ্বেগ

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার নদী খাল-বিলের অবক্ষয় ক্রমশ গতি অর্জন করেছে যা স্থানীয় মানুষদের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। নদী ভাঙ্গন, অপরিকল্পিত খাল ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ দখলের কারনে উপজেলার বহু জলাধার শুস্ক হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুর্বে যেখানে নৌকা চলাচল করতো এবং বর্ষা মৌসুমে জলাধার পানি ধরে রাখতো। এখন সেই খালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলাচ্ছেন দখলদাররা।

উপজেলা ভুমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে চারঘাট উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার্ভের মাধ্যমে খালগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত খালগুলোর মধ্যে বেলঘরিয়া হইতে কাটাখালি প্রায় ১.৫ কি:মি:, ঝাউবন হইতে ঝান্ডা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিমি, হাবিবপুর হইতে নিমপাড়া প্রায় ৪ কিমি, কানাবিল গুড়িপাড়া হইতে তালবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি এবং শিবপুর হইতে পলাশ বাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিমি উল্লেখযোগ্য। তবে শর্ত অনুযায়ী নিষ্কন্ঠক খাল হিসেবে চলতি অর্থবছরে পদ্মা নদী বেলঘরিয়া হইতে কাটাখালি প্রায় ১.৫ কি:মি: এবং বড়াল নদী সংলগ্ন ঝাউবন হইতে ঝান্ডা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিমি খাল দুইটি খালের তথ্য মন্ত্রালয়ে প্রেরন হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করীম মিজান।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, চারঘাটের পদ্মা ও বড়াল নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙ্গনের ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক খাল এবং বিলের অনেক অংশ শুস্ক বা ভগ্নদশায় পড়েছে কৃষি জমিগুলো। স্থানীয় কৃষকরা জানান, পূর্বে যেখানে নৌকা চলাচল করতো এবং বর্ষা মৌসুমে জলাধার পানি ধরে রাখত, এখন সেই খালগুলো কার্যহীন বা অগভীর হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে শষ্য চাষ ও মৎস্যজীবনের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খাল ও বিলের অবস্থা ভয়ঙ্কর। ইউসুফপুর, শলুয়া, সরদহ এবং নিমপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি খাল-বিল শুস্ক হয়ে গেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কালের বিবর্তনে চারঘাটে শতাধিক খাল বিল প্রাকৃতিক অবস্থা হারিয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গনপ্রবণ অংশে শস্যক্ষতি ও মৎস্যজীবনের ক্ষতি বেড়েছে।

খাল-বিল সংযোগ নালাগুলোর বেশিরভাগই ছিল বড়াল নদীকেন্দ্রিক। এক সময়ের খরস্রোত বড়াল নদী অবৈধভাবে দখলদারের কারনে শুকিয়ে এখন শুধু স্মৃতি হয়ে রয়েছে। ফলে এই নদীর সংযোগ নালাগুলো কার্যত শুস্ক হয়ে জলাধার কৃষি ও মৎস্য চাষের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। ঝিকরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম জানান চারঘাটের হারিয়ে যাওয়ায় জলাধারের অভাবে কৃষকরা সুস্ক মৌসুমে প্রায় পানি সংকটে পড়ছেন। তাই তারা চান দ্রুত খাল পুররুদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হোক। খাল বিলের এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনেতিক প্রভাবও ফেলেছে। শুস্ক খাল ও বিলের কারনে পানি সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে, যা মৎস্য চাষ ও সেচের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নদী এবং খালপুনরুদ্ধারের উদ্যেগ দ্রুত গ্রহন না করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় কৃষি ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহামন বলেন, চারঘাটের নদী ও খাল বিলের পুররুদ্ধার প্রকল্প এখন সময়ের দাবি। এই প্রকল্প কার্যকর হলে কেবল পরিবেশই রক্ষা হবে না, বরং স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যজীবনের উপর প্রভাবও কমবে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সাথে মিলিত হয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের সাফল্যেও মূল চাবিকাঠি। তবে চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। প্রাকৃতিক জলাধার পুনরায় কার্যকর এবং কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি কমানোর জন্য অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও পুনরায় খাল খননের মাধ্যমে খাল-বিলগুলোতে পানি প্রবাহে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের করার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

রাজশাহী-০৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, তাঁরা খাল ও বিলের সংকট পর্যবেক্ষন করছেন। পদ্মা ও বড়াল নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাল-বিলগুলোর অনেক সংযোগ ক্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী চারঘাটের খালগুলো পুন:খনন ও নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহনে তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin