মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২
  • ৩১৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে পুলিশের এক কর্মকর্তা অবৈধভাবে একটি জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই জবরদখলের ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে গেলেও তা নেওয়া হচ্ছে না। শনিবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।

রাজশাহী শহরের বড়বনগ্রাম মৌজায় খতিয়ান নম্বর-১২১৫, জেএল নম্বর- ৮২ ও দাগ নম্বর- ৩১৬১ এর তিন কাঠা জমি নিয়ে এই সমস্যা। এখন জমিটির মালিকানা দাবি করছেন সাতজন। কিন্তু একজন পুলিশ কর্মকর্তা সে জমি অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ। এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহাবুবুর রহমান। তিনি পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জমিটির মূল মালিক ছিলেন সেরাজ উদ্দিন শেখ নামের এক ব্যক্তি। সেরাজ উদ্দিন তার মোট ২১ কাঠা জমি থেকে তিন কাঠা ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল বিভা রহমান নামের এক নারীর কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু একমাস পরেই সেরাজ উদ্দিন বিক্রি করা তিন কাঠাসহ মোট ২১ কাঠা জমিই তার চার ছেলের নামে সমানভাবে বণ্টন করে হেবা দলিল করে দেন। চার ছেলের মধ্যে সাইদুল ইসলাম নামের এক ছেলের ভাগে পড়ে বিভা রহমানের কেনা তিন কাঠা জমি। পরবর্তীতে সাইদুল ইসলাম বুঝতে পারেন যে, এই জমি তাঁর বাবা আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই কৌশলে বাবার দেওয়া হেবা দলিলের বলে ২০১১ সালে পুলিশ কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী কোহিনূর ইয়াসমিনের কাছে বিক্রি করেন।
জমিটি ফাকা পড়ে ছিল বলে বিভা রহমানও কেনার পর আর কোন খোঁজ নেননি। ২০১৬ সালের দিকে বিভা রহমান জমির খারিজ করতে গিয়ে বোয়ালিয়া ভূমি অফিসে গিয়ে দেখতে পান, তিনি যার কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন সেই সেরাজুল ইসলাম জমি বিক্রির পরও একই জমি ছেলেকে দিয়েছেন এবং সেই ছেলেও আরেকজনের কাছে বিক্রি করেছেন। এসব দলিল বাতিলে তিনি বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসে মামলা করেন। কিন্তু কিছু দিন পরই বিভা রহমান মারা যান।
বিভা রহমান নিঃসন্তান থাকার কারণে এই জমির ওয়ারিশ হন তাঁর স্বামী কোরবান আলী এবং তিন ভাই নজরুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম ও আবদুস সামাদ। এদের মধ্যে বিভা রহমানের স্বামী কোরবান আলীও পরে মারা গেলে জমির তার অংশটুকুর ওয়ারিশ হন চার ভাই বজলার রহমান, নজরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও মোজাহারুল ইসলাম। এখন এই সাতজন জমির মালিক। ওয়ারিশেরা ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করেন। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন থানা ভূমি অফিসের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারিশ দাবি করা সাতজনই উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে আবদুস সামাদ বলেন, ভূমি অফিসের মামলার রায়ে বলা হয়েছে, সেরাজুল ইসলাম বিভা রহমানের কাছে জমি বিক্রির পরও সেই জমি ছেলে সাইদুল ইসলামের নামে হেবা দলিল করেছেন যা ঠিক হয়নি। একইভাবে সাইদুল ইসলামও ওই জমি কোহিনূর ইসলামের কাছে বিক্রি করেও ঠিক করেননি। তাই জমির মালিকানা পাবেন বিভা রহমানের ওয়ারিশরাই। আর কোহিনূর ইসলাম ক্ষতিপূরণ পাবেন সাইদুল ইসলামের কাছে। বিভা রহমানের ওয়ারিশরা জমির মালিকানা পেলেও এখন কোহিনূর ইসলামের পক্ষে তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, ‘গত ২৫ জুন আমরা সাত ওয়ারিশ জমিটিতে সীমানা প্রাচীর এবং এর সঙ্গে একটি গেট দেই। আমাদের অগোচরে পুলিশ কর্মকর্তার লোকজন সেই গেট ভেঙে দেন। গুড়িয়ে দেন সীমানা প্রাচীরও। ২৬ জুন আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ করতে শাহমখদুম থানায় যাই। কিন্তু থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়ে দেন, অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ নিতে পারবেন না। এরই মধ্যে গত ৯ জুলাই অতিরিক্ত ডিআইজি থানা পুলিশ নিয়ে ঐ জমিতে গিয়ে তার স্ত্রীর জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে একটি সাইনবোর্ড বসিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর সারারাত পুলিশ পালা করে ঐ সাইনবোর্ড পাহারা দেয়। পরদিন আর পুলিশ না এলে আমরা আমাদের জমির ওপর লাগানো অবৈধ সাইনবোর্ড সরিয়ে দেই।

এতে পুলিশ কর্মকর্তা ভীষণ খেপেছেন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছেন। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমরা এখন থানা পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য কী আইন অসহায় হয়ে পড়বে? পুলিশ কর্মকর্তা তার প্রভাব খাটিয়ে কি অবৈধভাবে আমাদের জমি দখলে নিয়ে নেবেন? এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ভূমি অফিসে যে রায়টা হয়েছে তা কানুনগো ও সার্ভেয়ারের তদন্তের ভিত্তিতে। এসিল্যান্ড নিজে যাননি। ওই রায়টা ঠিক হয়নি। জমিটা তো আমিও কিনেছি। আমিও তো ভুক্তভোগী। আমারও বিচার চাওয়া উচিত। তারপরও একটা জটিলতা যখন হয়েছে তখন এসিল্যান্ড যদি আবার দুপক্ষকে ডাকেন, আমি যাব। একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই সমাধান হবে।

থানায় অভিযোগ না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘জমিটা নিয়ে বিরোধ পুরনো। পুলিশ জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে না। এটা পুলিশের কাজ না। সে জন্য অভিযোগ নেওয়া হয়নি।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin