সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

জমি দখলের প্রতিবাদে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আইনজীবী আশরাফ মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি জমি দখলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি রোববার দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তবে কৃষক দল নেতা আশরাফ মল্লিক জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভুক্তভোগী নারীর নাম ফাতেমা জোহুরা। তার বাড়ি গোদাগাড়ীর বিদিরপুর গ্রামে। তিনি গোদাগাড়ীর পশুণ্ডা মৌজার ১ দশমিক ৪৪৭৫ একর ধানী জমির মালিক। এরমধ্যে দশমিক ৬২ শতক ক্রয়সূত্রে এবং বাকি জমি তিনি স্বামী আবুল হোসেনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। তার স্বামী ১৯৮৮ সালে মারা যান। এতদিন ধরে তিনি জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। জমির খাজনা-খারিজও আছে ফাতেমার নামে। তবে সম্প্রতি জমিগুলো দখল হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা জোহুরা বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পরই রওশন আরা বেগম, বাদেনুর বিবি, মাফিয়া খাতুন, টগরি খাতুন ও সাজেনুর বিবি একটি দলিল নিয়ে আসেন। তারা দাবি করেন যে, আবুল হোসেন মৃত্যুর আগে এই জমি তাদের কাছে বিক্রি করে গিয়েছেন। এই দলিল জাল বলে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতে প্রমাণ হয় যে, দলিল জাল।

এরপর এই চক্রটি এতদিন চুপচাপ ছিল। গতবছর সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তারা আবার জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তারা এবার দাবি করেন, আবুল হোসেনের বোন মেহেরজান ও তার ভাতিজা খলিলুর রহমান নাকি বাদেনুর বিবি, সফেদা খাতুন, সাজেনুর বিবি ও টগরি বিবির কাছে জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। অথচ মেহেরজান ও খলিলুর রহমান ১৯৭২ সালেই ভারতে চলে গেছেন। তারা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বৈধতা জানতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র সহকারী কমিশনার মানজুরা মুশাররফ স্বাক্ষরিত কপিতে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো কেস নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তারপরও ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সামনে এনে গত এপ্রিলে মাটিকাটা মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব এডভোকেট আশরাফ মল্লিক, মেডিকেল মোড় কোকড়াপাড়ার কারিম মাঝি, লালবাগ গ্রামের আনারুল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম ও মাজারগেট এলাকার সুমির তৃতীয়পক্ষ হিসেবে জমিটি দখলে নিয়েছেন। তখন তার জমিতে ধান লাগানো ছিল। এরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গিয়ে ধানী জমিতে মাটিভরাট করে দখলে নেন।

ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা খবর পেয়ে জমি দখলে বাধা দিতে গেলে তাদের মারতে আসে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে তারা আর জমির দিকে যেতে পারেননি। পরে তিনি ঐ জমিতে স্থিতিবস্থা জারির আদেশ পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ঐ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু দখলদাররা পেশিশক্তি ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলে রেখেছেন। তারা জমি বিক্রির নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকাও নিচ্ছেন। এছাড়া জমি বিক্রির জন্য সাইনবোর্ডও টাঙিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা থানায় অবহিত করেছেন। পুলিশ গেলেও তারা কোনকিছুর তোয়াক্কা করছেন না। এ অবস্থায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট আশরাফ মল্লিক বলেন, ফাতেমা ও তার স্বামী আবুল হোসেন নিঃসন্তান ছিলেন। আইন অনুযায়ী এই জমি পুরোটাই ফাতেমা পান না। আবুল হোসেনের বোন ও ভাতিজা জমি পান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের শালিস হয়েছিল। সেখানে পাঁচজন আইনজীবী ছিলেন। এই পাঁচজনের একজন ছিলাম আমি। জমি আবুল হোসেনের বোন ও ভাতিজা পাবে বলে আমি মতামত দিয়েছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমি জমিতেই যাইনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin