নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব বা অনিয়ম নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকোট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি নিজে কোনো চেকে স্বাক্ষর করবেন না এবং সরাসরি ত্রাণ বা চাল বিতরণেও অংশ নেবেন না।
সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিসিকে এমপির দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের মতামত নিয়ে প্রকৃতপক্ষে যারা প্রাপ্য, তাদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সুবিধাসমূহ বণ্টন করা হবে। উপকারভোগী অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বা ভিন্ন মতাদর্শের হলেও এতে কোনো আপত্তি থাকবে না। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে গরিবের হক নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় পবা-মোহনপুর এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছেন এমপি মিলন। তিনি বলেন, “সাময়িকভাবে এটিকে কঠোর পদক্ষেপ মনে হলেও ভবিষ্যতে সাধারণ জনগণ এর সুফল ভোগ করবে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে মিছিল, মিটিং বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, জনগণের স্বার্থে এই সত্যের রাস্তায় তিনি অনড় থাকবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন এমপি।
নিজের কাজের স্বচ্ছতা প্রমাণে এমপি মিলন বলেন, জনসমক্ষে তাঁর কোনো ভুলত্রুটি ধরা পড়লে তা তিনি সানন্দে স্বীকার ও সংশোধন করে নেবেন। তবে আইনের বাইরে গিয়ে কোনো দল পাকানো, গ্রুপিং বা কোন্দল সৃষ্টি করা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, “অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে দলের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” একই সাথে তিনি সবাইকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ জানা, বোঝা এবং তা মেনে চলার আহ্বান জানান।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে জনগণের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে দেওয়ার বা লবিংয়ের দায়িত্ব আমি নেব না।”
পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম, আব্দুল হালিম, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, সদস্য মাজদার রহমানসহ পবা উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কগণসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।