নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর ধামইর হাটের বেনিদুয়ার মিশন প্রাঙ্গনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাঁওতাল সম্প্রদায়ের দাশাই উপলক্ষে নৃত্য প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচার একাডেমি গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনিদূয়ার মিশনের পাল পুরোহিত ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির নির্বাহ পরিষদ সদস্য যোগেন্দ্রনাথ সরেন, ধামইরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস.সি আলবার্ট সরেন, নটরডেম কলেজ, ঢাকার প্রভাষক দুলাল এস টুডু, বেনিদূয়ার মাঞ্জহী রবিন কিস্কু ও বেনিদুয়ার মিশনের ফাদার প্যাট্রিক গমেজ। একাডেমির প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেনের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রমথ কিস্কু এবং গবেষণা সহকারী মোহাম্মদ শাজাহানসহ অত্র এলাকার আদিবাসী জনগণ।
সভাপতি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, দাশায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি বংশানুক্রমিক উৎসব। দূর্গাপুজার সময়কালীন অনাবৃষ্টি ও খরায় পৃথিবীর ভূমন্ডল উষ্ণ ও মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়। প্রকৃতির গাছপালা মরে যায়। এই অবস্থা থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে বৃষ্টি বর্ষন করে প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য প্রকৃতি প্রেমি ও প্রকৃতির মাঝে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি ও শক্তির অবস্থান বিশ্বাসী সাঁওতালরা দাশাই নাচ গানের মাধ্যমে সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থনা নিবেদন করেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, দাশাই এ অধিকাংশ সাঁওতালদের সত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনের কারনে এটি দাশাই উৎসবে রুপলাভ করে। তবে দাশাই উৎসবের কারনে ঐতিহ্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিধায় এ বিষয়ে বিস্তর গবেষনা না করলে দাশাই এর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। তাদের হারানো সংস্কৃতি উদ্ধারে এবং সংরক্ষনে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ অবস্থা ধরে রাখতে এবং সংস্কৃতি যুগ যুগ টিকিয়ে রাখতে একটি আরকাইভ প্রতিষ্ঠা করার দাবী জানান তারা। সভাপতির বক্তব্যের পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।