সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

নগরীতে পুকুর ভরাট করে উঠছে বাড়ি

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৪ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীতে চলছে পুকুর ভরাটের মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর। আর সেই জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে ভিন্ন নামে বাহারি স্থাপনা। নানা আলোচনা-সমালোচনার পরও কার্যত প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভরাট করা হচ্ছে এসব পুকুর।

নগরীর প্রায় সব এলাকায় এ চিত্র দেখা গেলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লিচুবাগান এলাকার (ঘোষপাড়া সংলগ্ন) বিশালাকৃতির পুকুরটি। রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক বছর আগেও প্রায় বছরজুড়েই ভরপুর থাকতো পুকুরটি। কিন্তু সম্প্রতি ক্রমেই কমে আসছে প্রায় ৬৪ কাঠা বিশিষ্ট পুকুরটির জলাধার। চারদিকে পাড় বাঁধা থাকলেও কমে আসছে পুকুরের আকারও। পুকুরের পশ্চিম পাশে ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে খাবার হোটেল, তার পাশেই পাইলিং করা হচ্ছে বহুতল ভবনের, আর পূর্ব পাশে ভরাট করে গড়ে উঠেছে ফাস্ট ফুডের রেস্টুরেন্ট। অথচ পুকুরের উত্তর পূর্ব কর্ণারে ঝুঁলছে প্রশাসনের পুকুর ভরাটের সুবিশাল নিষেধাজ্ঞা।

স্থানীয়রা বলছেন, পুকুরটিতে অনেক আগে থেকেই সারা বছর পানি ভরপুর থাকে। মাছ চাষের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ বিভিন্নভাবেই ব্যবহার করে পুকুরের পানি। তবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমল থেকেই কিছু দখলবাজদের নজর ছিল পুকুরটির ওপর। এই এলাকায় নতুন অনেক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে, সে কারণে এই জায়গাতেও কিছু অসাধু ডেভলপারের নজর পড়েছে।

পুকুরের মালিকানায় যারা আছেন তারা ধীরে ধীরে পশ্চিম, পূর্ব ও বিভিন্ন অংশে মাটি-বর্জ্য ফেলে ভরাট করছে। পুকুরের পশ্চিম পাশে ইতোমধ্যে খাবার হোটেল চালু করা হয়েছে। এর পাশেই নতুন ভবন নির্মাণের করে পাইলিং করা হচ্ছে। অপরদিকে পূর্ব অংশে ভরাট করে মুখরোচক খাবারের রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। চারপাশে ভরাটের চাপে পুকুরের মাঝ অংশটুকু এখন অস্তিত্ব সংকটে। যেভাবে লুকোচুরি করে বুদ্ধি খাটিয়ে ভরাট করা হচ্ছে মনে হয় কয়েক বছরও টেকসই হবে না বলেও শংকা তাদের।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুকুরটা তাদের এলাকার বড় একটি জলাধার ছিল। কয়েক বছর আগেও এখানে মাছ ধরা হতো, গরু-মহিষকে গা ধোয়ানো হতো, বর্ষায় পানি উপচে উঠত। এখন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ঝুলিয়েও যেভাবে দিনে-দুপুরে ভরাট চলছে, তা দেখে সবাই হতভম্ব। তারা বহুবার অভিযোগ করেছেন, কিন্তু কেউ এসে থামায়নি। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার মানুষ ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পড়বে। এর দায় কে নেবে বলে প্রশ্ন করেন তারা।

তবে পুকুর মালিকদের দাবি, অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী ভবনের সুয়ারেজ লাইনের পানি প্রতিনিয়ত পুকুরে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকসহ ক্ষতিকর অনেক বর্জ্য সরাসরি পানিতে ফেলা হচ্ছে। এতে পুকুরে ছেড়ে দেওয়া মাছ হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাও করেন তারা।

পুকুরের অংশীদার বনি বলেন, যেখানে ভরাট করা হয়েছে সেটুকু ভিটা। এর যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে আছে। এসিল্যান্ড অফিস থেকে যেটুকু পারমিশন করে দিয়েছে সেটুকু ভিটা, এর বাহিরে তারা যেতে পারবেন না। পুকুরের সীমানার বাহিরে কোনো ভরাট নাই, যদি যেয়েও থাকে সেটা ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে।

পুকুরের মাছচাষী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুকুরটি লিজ নিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করা আছে। সেক্ষেত্রে এই যে পাশের বিল্ডিংগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ড্রেনেজ লাইন দিয়ে পুকুরে ফেলছে। এতে তার মাছ প্রায়ই মরে ভেসে উঠছে। তিনি ইতোমধ্যে পুকুর মালিক আলফাজকে বিষয়টা জানিয়েছেন। যার কাছ থেকে তিনি লিস্ট নিয়েছেন যিনি পুকুরের মালিক তাকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজে থানায় জিডি করেছেন বলে জানান মামুন।

ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) এর সভাপতি শামীউল আলীম শাওন বলেন, বেআইনিভাবে রাজশাহীজুড়ে জলাধার ভরাট করে বড় বড় ভবন নির্মাণ সহ নানা ধরনের কাজ করা হচ্ছে। পুকুর সংরক্ষণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এমনকি ঘোষপাড়ার জোড়াপুকুর ইতিমধ্যে প্রশাসন পুনরুদ্ধার করতে পুন:খননও করেছে। সেই পুকুর আবারো দখল হচ্ছে বিষয়টি দুঃখজনক। তারা চান অবিলম্বে সেই পুকুরসহ জেলা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাকৃত ৯৫২টি পুকুর উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করা হোক। একই সাথে এই পুকুর দখল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহীতে পুকুর ভরাট এখন প্রকাশ্য পরিবেশ অপরাধে পরিণত হয়েছে। লিচুবাগান এলাকার পুকুরটি ভরাট করে হোটেল ও বহুতল ভবন তোলা শুধু বেআইনি নয়, এটি নগরবাসীর জীবনের প্রতি সরাসরি হুমকি। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড ঝুলছে, কিন্তু তার নিচেই দিনের আলোয় ভরাট চলছে—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, বাপা ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি অবিলম্বে ভরাট বন্ধ করে পুকুর পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজশাহীর শেষ অবশিষ্ট জলাধারগুলো যদি এখনই রক্ষা না করা হয়, তাহলে আগামী দিনে নগরবাসী ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এর দায়ভার কেউ এড়াতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নবনিযুক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, একসময় রাজশাহী ছিল পুকুরের শহর, কিন্তু বর্তমানে অনেক পুকুর দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। তাঁরা ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে কাজ শুরু করছেন। একটি ভরাট পুকুর পুনঃখননের কাজও শুরু করা হয়েছে। তাঁদের পরিষ্কার সিদ্ধান্ত, রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট করা যাবে না। যেগুলো ইতোমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে, নির্বাচনের পর সেগুলো নিয়েও বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin