চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ঐতিহ্যবাহী খেবেল খেচা নাচ দিয়ে শুরু হয় নবান্নের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার দুপুর ১২টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার ও বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। এরপর সাংস্কৃতিক দলগুলোর নাচ-গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল তিনটায় গ্রাম্য মোড়ল কার্তিক কোল টুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম।
এছাড়াও এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর প্রোগ্রাম পিন্টু আলবার্ট পিরিচ, এনএজিআর (ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রীণ রিভ্যুলেশন)’র প্রোগ্রাম অফিসার প্রদীপ হেমব্রম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নওগাঁ জেলা শাখার উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, এসআইএল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহীর এরিয়া ম্যানেজার নিকোলাস মুরমু, কোল সম্প্রদায়ের নেতা রামদাস হাসদা, রুমালি হাসদা ও কোল যুবক উজ্জল হাসদা। সঞ্চালনা করেন এসআইএল’র এরিয়া সুপারভাইজার ইসরাইল হাসদা।
নবান্ন উৎসব উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও দরিদ্র দুজন নারীকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। ‘আমার ভাষা, আমার পরিচিতি’ প্রতিপাদ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং আলোর পাঠশালা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামার ইনস্টিটিউট অব লিংগুয়েস্টিক (এসআইএল) ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল।
শেষে ২০২৩ সালে ১২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য দুই নারীকে সেলাইমেশিন, ৭০ জন শিক্ষার্থীকে খাতা-কলম বিতরণ ও সাংস্কৃতিক দলগুলোকে পুরস্কার দেয়া হয়।
রুমালি হাঁসদা বলেন, হামরা কোল জনগোষ্ঠীর মানুষের বেশিরভাগেরই বসতভিটা নাই। খাস জমিতে বাস করি। প্রশাসনের কাছেও ঘুরেছি। কিন্তু জমির ব্যবস্থা হয়নি। হামরা যে পুকুর পাড়ে বাস করছি, সেটাও অন্য মানুষে চাষ করে খায়। কিন্তু হামরা সেটাও পায় না। এদ্যাশে রোহিঙ্গারা জাগা পায়, কিন্তু হামাদেরকে ভিটা-মাটি থাইক্যা উঠাচ্ছে। হামরা কোথায় যাবো। বোম মারলেও হামরা কোথাও হামাদের যাওয়ার জাগা নাই। হামরা বাংলাদেশের মানুষ, এদ্যাশেই থাকবো।
এছাড়া অন্যান্য অতিথিরা তাদের বক্তব্যে আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় নিজেদের মধ্যে চর্চা বাড়াতে হবে। অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আনতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। তবেই আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে, সফল হবে।