সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

পবায় কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১৯৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়মিত বৃষ্টিতে উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করায় রোপা আমন ধান চাষাবাদে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। বৃষ্টির জমে থাকা পানি দিয়ে বীজতলা তৈরি ও জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। মাঠজুড়ে লাঙল-জোয়াল, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহারের শব্দ আর কৃষকদের হাঁকডাকে মুখরিত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (জরপব ঞৎধহংঢ়ষধহঃবৎ বা ধান রোপণ করা মেশিন) যন্ত্র দিয়ে কৃষিজমিতে ধানের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। সেই লক্ষ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি না করে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ধানের চারা রোপনের লক্ষ্যে প্লাস্টিকের ট্রেতে বীজ বপন করে বীজতলা তৈরি করা সহ নানা ধরনের কর্মযজ্ঞ করছেন কৃষকেরা।

একসময় চাষাবাদে হালের বলদ, লাঙল-জোয়ালই ছিল কৃষকের মূল ভরসা। কায়িক শ্রমের বিনিময়ে মাঠে ফলতো সোনালী ফসল। এখন আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির সাহায্যে জমিচাষ, বীজ বপন, চারা রোপণ, কাটা, মাড়াই সহ কৃষিতে হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কমেছে শ্রম ও খরচ, অপরদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে উৎপাদন।

হরিপুর ইউনিয়নের আলিমগঞ্জ ব্লকের কৃষকরা বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ করছেন। তাঁর পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতির সাহায্যে চাষাবাদ করছেন। এছাড়াও রাসায়নিক ও বালাইনাশক ছাড়াই জৈব্য সার ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল ধান, গম, আলু, ভুট্টা, শরিষা, পেঁয়াজ, মরিচ, করলা, বেগুন, পটল, পতিত জমিতে পুষ্টিবাগান তৈরী, বস্তায় আদা ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ ও উৎপাদন করছেন।

হরিপুর ইউনিয়নের আলিমগঞ্জ ব্লকের আলিমগঞ্জ গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, “উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এর পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে সাত বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করবেন। এই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধান লাগালে আগে ট্রেতে বীজতলা তৈরী করে চারা করতে হয়। সেজন্য ব্রি-ধান-৯৩ ও ১০৩ বীজ বপন করেছেন। ট্রেতে ধানের চারা হতে সময় কম লাগে। কম সময়ে রোপণ করা যায়।

চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়, সঠিক পদ্ধতিতে বীজ ছিটানো যায়, চারা উঠানো সহজ হয়, রোপণে গভীরতা সঠিক ও সারিতে চারা রোপণ হয়। আবার যন্ত্রের সাহায্যে লাইন করে চারা রোপণ করলে আগাছা নিড়ানো ভাল হয়, আলো বাতাস সঠিক পায়, শিষ বড় হয়, চিটা সংখ্যা কম হয়, সার ও কীটনাশক ছিটানো সহজ হয়, ফসল ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হয় ফলে ফলন ভালো হয়, ধান কাটা সহজ হয়, শ্রমিক খরচ ও শ্রম কম লাগে, অর্থ সাশ্রয় হয় এবং কৃষক উপকৃত হয়।”

একই ব্লকের আলিমগঞ্জ গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন, কসবা গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন, রাসিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও সাজেদুল ইসলাম জানান, “তাঁরা সবাই পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান-৯৩ ও ১০৩ ধান রোপণ করবেন সেজন্য ট্রেতে বীজতলা তৈরী করেছেন। এরজন্য ট্রেতে ঝরঝরে মাটি ভরে ধান বীজ ছিটিয়ে তার উপর হালকা পরিমাণ মাটি দিয়ে ঢেকে পানি স্প্রে করে বীজতলা তৈরি করে চারা করতে হয়। এক বিঘা জমির জন্য ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রেতে বীজ বপন করতে হয়। চারার বয়স ১৫ থেকে ২০ দিন হলেই মেশিনের সাহায্যে জমিতে লাগানো হবে। মেশিনের সাহায্যে এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করতে খরচ হয় ৬০০ টাকা। শ্রমিক দিয়ে চারা রোপণ করলে খরচ হবে এক হাজার ৫০০ টাকা। যন্ত্র দিয়ে ধান, গম, ভুট্টা সারিতে বোনা যায়। আবার একই সাথে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তায় ভরা যায় এবং ফসল কাটার পর খড়ও আস্ত থাকে। তাতে শ্রম ও খরচ দুটোই কম হয়।

উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিমগঞ্জ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, “শ্রমিক সংকট ও মজুরী বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাস্টিকের ট্রেতে বীজতলা করায় ধানের চারা উত্তোলন, রোপণ সবই একযোগে করা যায়। এছাড়াও ফসলের চাষাবাদে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়, পরিবেশ ও প্রকৃতির উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হয়। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি হয়। পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা সেক্স ফেরোমেন, আঠালো ফাঁদ, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ কমছে ও ফলন বাড়ছে এবং ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা। কৃষিকজে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহারে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াইয়ের কাজ কৃষকদের সহজ হবে এবং শ্রমিক-সংকট দূর হবে ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান এবং স্বাবলম্বী হবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পবা উপজেলার “উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা” কৃষিবিদ এম. এ. মান্নান জানান, “কৃষিতে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি তথা কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমে, অল্প সময়ে অধিক ফসল লাগানো এবং কাটা যায়। ফলে একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় হয়, অপরদিকে সময় ও কম লাগে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। দিন দিন ফসলের জমি কমে যাচ্ছে, জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট আছি, অফিসে সেবা নিতে এসে যেন কোন কৃষক ঘুরে না যায়। নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন। এছাড়াও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অব্যাহত আছে।”

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin