নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় ভন্ড পীর-ফকিরদের সমাজ ও শরীয়তবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে উলামায়ে কেরাম ও মুসল্লীবৃন্দ। শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলার বায়া বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রাবেয়া বসরী মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইমরান উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়া বাজারসহ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানববন্ধনে এসে মিলিত হয়। এ সময় মুসল্লীরা স্লোগান দেন ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ভন্ড পীরের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সব ভুয়া মাজারের কার্যক্রম কর, বন্ধ করতে হবে।
মাওলানা ইমরান উদ্দীন বলেন, ‘বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’-এর আড়ালে গাঁজার আড্ডা বসানো হতো। এ খবর পেয়ে দেড় শতাধিক তৌহিদী জনতা সেখানে গিয়ে তা ভেঙে দেয়। তিনি বলেন, তাঁরা মসজিদ বা মাজারের বিরুদ্ধে নন। তবে যেখানে অপকর্ম হবে, সেখানেই প্রতিবাদ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে ভন্ড পীরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলে নিরপরাধ আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আলেম-ওলামাদের অযথা হয়রানি বা আটক করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের নিকট আহ্বান জানান তিনি ।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মুসল্লীরা জানান, ভবিষ্যতেও শরীয়তবিরোধী যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামবেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তবে তৌহিদী জনতা বাধ্য হয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে। ইসলামকে কলুষিত করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তাঁরা সর্বদা প্রস্তুত।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দারুল উলুম আন নাজমুস সাকিব মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আবু জাফর। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভন্ড পীর-ফকিররা ইসলামের নামে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কুসংস্কার ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরাসরি ঈমান-আক্বিদার উপর আঘাত। প্রকৃত ইসলাম শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। অথচ এরা ইসলামকে কলঙ্কিত করে সমাজে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইসলামে কোনো ভ্রান্ত মতবাদ বা কুসংস্কারের স্থান নেই। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি বৃদ্ধির পেছনে এসব ভন্ড আস্তানার বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা গোপনে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসায়, আবার প্রকাশ্যে ধর্মের দোহাই দেয়। মুসল্লীরা আজ মাঠে নেমেছে এ কারণেই। পবা উপজেলাসহ দেশের সব অঞ্চলে ভন্ড পীর-ফকিরদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে বলে আজকের এই মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। সেইসাথে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বড়গাছী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর গোলাম মোস্তফা ও মাদানি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও উপজেলার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য এর আগে গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজলোর বিভিন্ন এলাকায় ডন্ড ফকীরদের আস্তানায় ইসলামের নামে অনৈসলামী কার্যক্রম, অসামাজিক কার্যকলাপ, আস্তানায় মাদকবাণিজ্য ও মাদকের আসর বন্ধ করতে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।