নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহরপুর জেলা মহিলা দলের আয়োজনে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পবা-মোহনপুর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কেশরহাট এলাকায় একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল বিশৃংখলার চেষ্টা কওে যাচ্ছে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে দলের সকল ব্যক্তিকে কোন প্রকারের দলবাজি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পাঁচ আগস্ট বেলা ৩টার পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিপ্লবী হয়েছে।
দুপুর পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ ছিলোনা। তারা যে কালচার শুরু করেছে এর ফল তাদের পেতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করার চেষ্টা করছে। যে লোকের গায়ে কেউ হাত দেয়নি, এমনিতেই মারা গেছে তাকে নিয়ে তারা মিথ্যাচার করছে। তারা বলছে মাটি রক্তে ভিজে গেছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা কর্মীর বাড়ি ঘর ভাঙচুর করেছে। এটা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ৮ মার্চ নারী দিবসে বেগম জিয়াকে মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বেগম জিয়া ছিলেন নারী জাগরণের কর্ণধার। তিনি নারী উন্নয়নে এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ এবং চাকরি ক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য নারী কোটা করেছিলেন। সেইসাথে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের গঠন করে নারীদেরকে আরো সুসংগঠিত করেছেন। তার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, যারা ত্যাগী এবং দলের হয়ে কাজ করেছেন তাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। অন্যান্য নারীরা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী। মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার ও আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে নারীদেও অমূল্যায়ন করে কোন উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। বিগত সময় অনেক চেষ্টা করেও এই কমিটি করা সম্ভব হয়নি। এই কমিটি থাকলে বিগত নির্বাচনের সময় আরো সুশৃংখল ও ভালোভাবে কাজ হতো। আগামীতে এই কমিটি দেশের উন্নয়নে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন, মোহনপুর উপজেলায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার ভোটারের মধ্যে ৭২ হাজার ভোটার নারী। এজন্য নারীদের কমিটি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ বছরে পতিত সরকারের আমলে আন্দোলন সংগ্রামে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এজন্য একটি শক্তিশালী মহিলা দলের কমিটি গঠন করার আহ্বান জানান তারা।