নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী লক্ষ্মীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারীর মধ্যে জোরপূর্বক বসবাসকারী পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে অত্র স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখানকার প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের বিনোদন ও খেলাধুলা করার জন্য বিদ্যালয় মাঠে স্লীপার, ঢেঁকি, ঝিকঝাক ও রিংঝোলা স্থাপন করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে গেলে বাউন্ডারীর মধ্যে থাকা বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের উপর পানি ও বালি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। সেইসাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করে।
তিনি বলেন, স্কুলের পশ্চিম দক্ষিণ কর্নারে জায়গা দখল করে আব্দুল কাদের বাড়ি করে বসে আছেন। এখন স্কুলের পুরো জায়গা দখল করার পাঁয়তারা করছেন বলে জানান তিনি। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরপরেও ঐ ব্যক্তির অত্যাচারে সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
অত্র বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নাজমুল নাহার মিতা, নার্গিস নিলুফা, ইয়াসমিন আকতার, সাবিহা খাতুন, সালমা খাতুন, এ কে এম কামাল, নাজমুন নাহার, সায়দা খাতুন, হেলেন আকতার ও জান্নাতুন ফেরদৌস, অভিভাবক মৌসুমী আকতার, জবা আক্তার, সুইটি খাতুন, শাহীনুর, শরীফা, শাহনাজ ও সুলতানাসহ অন্যান্য অভিভাবক এবং একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আব্দুল কাদেরের ইন্ধনে তার পরিবারের লোকজন প্রায় প্রতিদিন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি ও বালি নিক্ষেপ করছে। যাহা কোনভাবেই কাম্য নয়। তারা সকলেই এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকু বলেন, স্কুলে ঐ জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে গন্ডোগোল ও মামলা চলছে। আব্দুল কাদের স্কুলের পুরো জায়গা দখল করে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। শিক্ষকদের গালিগালাজ ও শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি ও বালি নিক্ষেপ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
এদিকে রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ স্কুলের জমি নিয়ে ঝামেলা আছে। এ বিষয়ে মামলাও চলমান রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের শরীরে বালি ও পানি মারার বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। স্কুলে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ জানালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
তবে আব্দুল কাদেরের ফোন নম্বর না পাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।