নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ রাজশাহীর শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন দাবী নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রনাধীন স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ হতে তিন বছর (বর্তমানে ০৪ বছর) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) চালু রয়েছে। এই কোর্সে প্রতি বছর সারা দেশে হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি এবং লেখাপড়া করছে।
কিন্তু পতিত সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে ৬১ নং আইন তথা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ প্রনয়ন করেন। ঐ আইনের ১৫ ধারা ও ৫ম তফসীলে বর্ণিত সকল যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমাদেরকে উক্ত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। ঐ আইনের অধীন নিবন্ধিত ও রেজিষ্ট্রারভুক্ত না হওয়ার কারণে আমরা ডেন্টাল চিকিৎসাশাস্ত্র ও ডেন্টাল চিকিৎসা প্রযুক্তি বিদ্যায় ০৩ বছর (বর্তমানে ০৪ বছর) মেয়াদী ডিপ্লোমাধারী হয়েও ডেন্টাল চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম দেশে এবং বিদেশে গিয়ে করতে পারছি না।
তারা আরো উল্লেখ করেন ঐ আইনের অধীন অন্তর্ভুক্ত ও নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে উক্ত আইন দ্বারা বিবেচিত। ফলে প্রায় ২০,০০০ জন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) সনদধারীগণ বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এছাড়াও সরকারী ০৯ টি এবং বেসরকারী প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান হতে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ২০০০ জন এর উপর উক্ত ডিপ্লোমা কোর্সটি সম্পন্ন করে বের হচ্ছে। অথচ, সমযোগ্যতা সম্পন্ন মেডিকেল এসিস্ট্যান্টদের কে উক্ত আইনের ১৫ ধারা ও ৫ম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে বিএমডিসি হতে নিবন্ধন প্রদান করা হচ্ছে।
তারা আরো উল্লেখ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন -১৯৮০ এর ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কোন যোগ্যাতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ৫বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই তাদেরকে স্বীকৃত ডেন্টাল যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি পূর্বক ঐ আইনের অধীন নিবন্ধন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে “এফ” ক্যাটাগরীতে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন প্রদানই নয় অধ্যবধি পর্যন্ত তা বিএমডিসি হতে নবায়নও করা হচ্ছে। অথচ চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিপ্লোমাধারীদেরকে এই নিবন্ধনের সুযোগ হতে যুগের পর যুগ বঞ্চিত করা হচ্ছে । মানবিক দিক বিবেচনা করে বিএমডিসি, আইন-২০১০ এর ১৫ধারা ও ৫ম তফশিলে অন্তর্ভূক্ত কওে চার বছরের মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের নিবন্ধন প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান, বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির ষভাপতি মাহাবুব আলম শান্ত, সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমেদসহ আই.এইটি রাজশাহী ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীবৃন্দ।