সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

বিদ্যুতের শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়েছে দোকান, থেমে গেছে মালিক বাবুর জীবন

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭৪ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজু আহমেদ বাবুর সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ এক আতঙ্কিত ফোনকল- দোকানে আগুন! কথাটা শুনে যেন বুকের ভেতর কাঁপন উঠল। হকচকিয়ে উঠে দৌঁড়ে গেলেন দোকানের দিকে। গিয়ে দেখলেন, দোকানের ভেতর থেকে বের হচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়া। বিদ্যুতের ভয়ে কেউ কাছে যাচ্ছেন না।

বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে করতেই পুড়ে ছাই দোকানের অনেক মালামাল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এমন ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুরহাটে। ৪০ বছর আগে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন বাবুর বাবা ওয়ালিউল ইসলাম সেন্টু। ছেলে বাবুর মন ছিল ফুটবলে। গোলকিপার হিসেবে বেশ সুনামও করেছিলেন। ১৯৯৫ সালের দিকে বসতে শুরু করেন বাবার দোকানে। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে আর পড়াশোনা হয়নি, খেলাধুলাও হয়নি।
বাবার ব্যবসায় হাত পাকানোর পর ২০০৫ সালে বাবু নিজেই করেছিলেন আলাদা দোকান। শুরুতে ছোট্ট একটা কাঠের ঢোপে শুধু শিশুখেলনা আর কসমেটিক্স তুলেছিলেন। প্রায় শূন্য হাতে শুরু করা তার ব্যবসা গত ২০ বছরে বড় হয়েছিল। ছোট্ট ঢোপ ছেড়ে বড় দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন। দোকানভরে কসমেটিক্স ও শিশু খেলনা ছাড়াও ছিল জুতা, স্যান্ডেল, শাড়ি-কাপড়, গার্মেন্টসামগ্রী। সেই দোকান পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী বাবু।

ব্যবসা শুরু করার পর কোনোদিন নিজের ইচ্ছায় দোকান বন্ধ রাখেননি বাবু। ঈদের দিনও বিকেলে দোকান খুলেছেন। আগে যখন একাই দোকান চালাতেন, শুধু মালামাল কিনতে যাওয়ার দিন দোকান বন্ধ রাখতেন। এখন বাবুর দোকানে কর্মচারীই ছিলেন দুজন। দোকান কোন সময় বন্ধ থাকত না। বাবুর সেই দোকান এখন ১৫ দিন ধরে বন্ধ। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা এ আগুন যেন ‘বিশ্রাম’ এনে দিয়েছে এই ব্যবসায়ীকে। তিনি দোকান খুলতে পারছেন না। কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, তা-ও বুঝে উঠতে পারছেন না।

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী খোকন দোকানটি পুড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। তাতে দেখা যায়, দোকানের ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ¦লছে। ভেতর থেকে ধোয়া বের হয়ে আসছে। কেঁদে কেঁদে খোকন বলছেন, ‘আল্লাহ তুমি হেফাজত করো, আল্লাহ এই মূহুর্তে বিদিরপুর বাজারে আগুন লেগে গেছে। ফায়ার সার্ভিস আপনি তাড়াতাড়ি আসেন।

ফায়ার সার্ভিস এসেছিল। পাশেই ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্প। তারাও এসেছিল। এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় লোকজনও। প্রথমেই বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপর সবাই মিলে আগুন নেভান। কিন্তু ততক্ষণে দোকানের অনেক মালামাল পুড়ে যায়। বাবুর দাবি, দোকানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। পুড়ে গেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার।

রাজু আহমেদ বাবু এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুড়ে যাওয়া দোকানের দিকে যান না। বাড়ি থেকেও বের হন না। কথা হলে জানালেন, প্রচণ্ড হতাশায় প্রথম চারদিন কাটিয়েছেন ঘুমের ওষুধ খেয়ে। এখন স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পারছেন না। বাবু বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে তিনি তিলে তিলে দোকানটা গড়ে তুলেছিলেন। একেবারে শূন্য হাতে শুরু করে তিনি ব্যবসাটা বড় করেছিলেন। একটা দুর্ঘটনায় তার বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মহাব্বত আলী মিন্টু বলেন, ‘বিদিরপুর বাজারে বাবুর দোকানটাই ছিল সবচেয়ে বড়। দোকানে অনেক মালামাল ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগে বেশিরভাগই পুড়ে গেছে। এভাবে দোকানটি পুড়ে যাওয়ায় আমাদেরও খুব মন খারাপ।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin