নিজস্ব প্রতিবেদক: মাশরুম চাষ সম্প্রসরাণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপি রাজশাহী পোস্টাল একাডেমি হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের আয়োজনে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও অর্থ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক( প্রশাসন ও অর্থ) ড. মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান।
কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাশরুম চাষ সম্প্রসরাণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকার প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এডিডিএই অফিস রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক( সংস্থাপণ ও উন্নয়ন) সাবিনা বেগম। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগের মাসরুম প্রকল্পের আওতাভূক্ত সকল জেলা, উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ ও কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মাশরুম চাষ, বাজারজাতকরণ ও পক্রিয়া বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশে জমির অপ্রতুলতা, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান, সর্বোপরি দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অমিত সম্ভাবনাময় ফসল মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না, বিধায় দেশে মাশরুম উৎপাদন যতই বাড়ানো হোক না কেন তাতে কোনো ফসলেরই উৎপাদন কমার সম্ভাবনা নেই।
তারা আরো বলেন, যার মোটেই চাষের জমি নেই তিনিও বারান্দা বা বসত ঘরের পাশের অব্যবহৃত জায়গায় অনেক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করতে পারেন। মাশরুম এমন একটি ফসল যা ধনী থেকে দরিদ্র সবার ঘরে সমভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এজন্য ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে মাশরুমের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবার। তাই মাশরুম চাষ দেশের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।
তারা আরো উল্লেখ করেন এদেশের মানুষকে মাশরুম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলা দরকার এবং মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। সেইসাথে এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী করা দরকার বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও উপস্থিত মাশরুম চাষীরা তাদের নানা সমস্যা কথা তুলে ধরেন। সেইসাথে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সহজে এর বীজ পাওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।