নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হল সেই ব্যক্তি যার দর্শন ক্ষমতা এতটাই ত্রুটিযুক্ত যে, সে স্বাভাবিক প্রদর্শন পদ্ধতিতে পাঠ করতে পারে না। অনেক শিক্ষাবিদের মতে, যারা আইনগতভাবে দৃষ্টিহীন তারা। কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন নাও হতে পারে। কারণ মানুষের চোখে দু-প্রকার ত্রূটি থাকতে পারে যথাক্রমে দূরদৃষ্টি) ও হ্রদ সৃষ্টি সংক্রান্ত ত্রূটি। রাজশাহীতে এ রকম দৃষ্টি প্রতিবন্ধি অনেকেই থাকলে শিক্ষিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রয়েছেন প্রায় ৩০জন। এর মধ্যে প্রায় ১২-১৩জন রয়েছেন অনার্স সহ মাস্টার্স (পাস)। অন্যান্যরা এস.এস.সি থেকে বিএ (পাস) আবার কেউ কেউ অনার্সসহ অন্যান্য বি বিষয়ে ও শ্রেণিতে অধ্যায়ণরত রয়েছেন।
রোববার লিটন নামে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি বলেন, তিনি রাজশাহীর নওহাটা ডিগ্রি কলেজ থেকে ইতিহাস বিষয়ে অনার্স শেষ করেছেন। তিনি দু:খ করে বলেন, চাকরী করতে গেলে তাদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়। চাকরীর পরীক্ষা দিতে গেলে বিভিন্ন সদস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় বিড়ম্বনার কারনে পরীক্ষা দিতে পারেন না। ভাল পরীক্ষা হলৌ তারা চাকরী পান না। পরীক্ষাও সঠিকভাবে নেয়া হয়না। এছাড়া তারা বর্তমান প্রধামন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে ৬টি দাবী করেন , যেমন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেয়া, অনার্স পাস করার পরে চাকরী না হওয়া পর্যন্ত মাসিক ভাতা এর দাবী করলেও একটি দাবীও এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে করে তারা মানবতের জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, মুর্শেদ নামে আরেক ব্যক্তি তিনি বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছিলেন রিটার্ন ও এমসিকিউতে টিকলেও ভাইভাতে তাঁকে নেয়া হয়নি বলে দিন অভিযোগ করেন। এছাড়াও প্রতিবন্ধিদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বিলুপ্তি করে দেয়া হয়ছে। এই দিৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধিদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।
এছাড়াও আরেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আব্দুস সোবহান বলেন, ২০১৩-১৪ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি সমাজ বিজ্ঞান থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষে করেছেন। তিনি এখন চাকরী খুঁজচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরী তাদের হচ্ছেনা। তৃতীয় শ্রেণির চাকরীর জন্য প্রতিদন্দিতা করলেও টিকে থাকতে পারছেন না। তিনি সদ্য সমাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঊনসত্তরটি এমসিকিউ সঠিক করলেও তার ফলাফল আসেনি। তাদের খাতাগুলো আলাদাভাবে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা দেয়ার সময়ে তাদের হেনস্তা শিকাড় হতে হয়। শিক্ষকরা তাদের আলাদা রুমে গিয়ে বসানো হয়। ম্যজিস্ট্রেটও ভাল চোখে দেখে। সর্বোপরি কেউ তাদের বুঝতে চান না। সকল বাধা অত্রিক্রম করে পরীক্ষা দিলেও ফলাফল শূণ্য বলে জানান তিনি। এভাবে প্রতিনিয়ত তাদের পিছিয়ে রাখলে উন্নয়ন কিভাবে হবে। লেখাপড়া করেই বা লাভ কি। কোটা ব্যবস্থা করে তাদের চাকীর ব্যবস্থা করার দাবী জানান।
জরিনা খাতুন বলেন, তিনি ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে ২০২০ সালে অনার্স-মাস্টার্স করে বের হয়েছেন। তিনি এখন বেকার। একজন নারী হয়ে এভাবে বেকার থাকলে তার অবস্থা পরিবার ও সমাজে কি হবে, ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। মাস্টার্স পাস করার পরেও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিলেও তিনি পাস করতে পারেননি। তিনিও কোটা দাবী করেন। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসে তাদের সমস্যা ও চাহিদা নিয়ে আলোচনা করতে চান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে পবার ভূগরোইল এর সুফল মুর্মুর মেয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি এস.এস.সি (পাশ) সিলভিয়া মুর্মু, গোদাগাড়ীর বেলাল হোসেনের ছেলে তাকবীর আলম, নগরীর বড়বনগ্রামের আইনুল এর মেয়ে শিউলী আকতার, নবগঙ্গা এলাকার শহিদুল ইসলাম, গোদাগাড়ীর কাদিপুর গ্রামের ফয়মুদ্দীন এর মেয়ে ঢাকার ইডেন গার্ডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী রোজিনা পারভীন বলেন, তারাও মানুষ। তারা এদেশে জন্মেছেন। তারা ভোট দেন। লেখাপড়া শিখছেন দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য । সেইসাথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাল থাকার জন্য। কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পড়ালেখা করে পরিবারের বোঝা তারা হতে চাননা। তিনিও যোগ্যতা অনুযায়ী সুস্থ্যসবল ব্যক্তিদের ন্যায় চাকরী চান। এর ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।
তারা আরো বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- ‘‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’’। ২৮নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- ‘‘কেবল ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী, পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না’’। উপরি-উল্লেখিত ২টি অনুচ্ছেদ ছাড়াও সংবিধানের মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদে আরো কিছু অধিকারের কথা বলা হয়েছে সেখানে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির ন্যায় সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দ্বারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। তাহলে তাদের উপযুক্ত চাকরী প্রদানে বাধা কোথায় বলে প্রশ্ন করেন এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি যুবক-যুবতীরা।