নিজস্ব প্রতিবেদক: খামারী মোবাইল অ্যাপ ও ক্রপ জোনিং সিস্টেম বিষয়ক কর্মশালা মঙ্গলবার অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের কর্মকর্তাদের জন্য এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন এইআরএস বিভাগ, বিএআরসি, ঢাকার সদস্য পরিচালক ড.মোশাররফ উদ্দিন মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, রাজশাহীর আঞ্চলিক বীজ প্রত্যায়ন অফিসার ড. মোতালেব হোসেন। ক্রপ জোনিং সিস্টেম সম্পর্কে তুলে ধরেন ক্রপ জোনিং প্রকল্প, বিএআরসি, ঢাকার প্রজেক্ট ম্যানেজরা আবিদ হোসেন চৌধুরী, খামারী মোবাইল অ্যাপ ব্যবাহর বিষয়ে তুলে ধরেন ( কাম্পিউটার ও জিআইএস ইউনিট) এবং পিআই, ক্রপ জোনিং প্রকল্প, বিএআরসি, ঢাকা এর পরিচালক হাসান মোঃ হামিদুর রহমান।
এছাড়াও ডিএই কর্তৃক ধানের উপর খামারী মোবাইল অ্যাপ সার সুপারিশ ব্যবহার করে সম্পন্নকত প্রদর্শনী ট্রায়ালের ফলাফলের উপর আলোকপাত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক উম্মে ছালমা। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রপ জোনিং প্রকল্প, বিএআরসি, ঢাকার সয়েল এক্সপার্ট ছাব্বির হোসেন। কর্মশালা উপস্থাপনা করেন বোয়ালিয়া, রাজশাহীর মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার ফারজানা হক।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমির পরিমান হ্রাস, ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ এবং কৃষি উপকরণের কার্যকর ও সঠিক ব্যবহার, গবেষণার সাথে মাঠ পর্যায়ে ফলনের পার্থক্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বর্তমান কৃষি। ক্রমহ্রাসমান আবাদি জমি এবং সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের বিপরীতে বর্ধিষ্ণু জনগোষ্ঠীর খাদ্যের যোগান দিতে হলে কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে টেকসই কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন ও লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ অপরিহার্য।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) কৃষির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টেকসই কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা প্রনয়দের লক্ষ্যে ২০১৭ সাল হতে ক্রপ জোনিং বাস্তবায়ন করছে। উপজেলাভিত্তিক ভূমি ও মৃত্তিকা এবং জলাবায়ুর তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণে জিওস্পেশাল প্রযুক্তি (জিআইএস, রিমোট সেনসিং, জিপিএস) ব্যবহার করে রুপ জোনিং উন্নয়নের কাজ চলমান। ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা বিবেচনায় গ্রুপ জোনিং অনুযায়ি ফসল উৎপাদন পরিকল্পনা করা হলে ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৫৮টি উপজেলায় ১৬টি ফসলের উপযোগিতা নিরুপন, ফসল জোন নির্ধারন এবং সার সুপারিশ প্রনয়ন সম্পন্ন হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকসহ অন্যান্য উপকারভোগির নিকট উন্নত কৃষি সেবা প্রদানে ফসল উৎপাদন পরামর্শক হিসাবে ‘খামারি’ মোরাইল অ্যাপ তৈরী করা হয়েছে। অ্যাপটি জিওস্পেশাল প্রযুক্তি নির্ভর একটি স্মার্ট কৃষি অ্যাপ, ফলে কৃষক নিজ জমিতে দাড়িয়ে তাৎক্ষনিকভাবে সেই জমির জন্য উপযোগি ফসল, সার সুপারিশসহ অন্যান্য তথ্য সহজেই জানতে পারবে। খামারি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে জমির উপযোগি ফসল আবাদ এবং সেই ফসলের জন্য সুপারিশকৃত সার প্রয়োগ করা হলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাসহ অধিক ফলন প্রাপ্তি ও আর্থিক লাভ অর্জিত হবে। খামারি অ্যাপটি বাংলায় প্রস্তুত করায় এটি সহজেই বোধগম্য এবং এর ব্যবহার পদ্ধতি কৃষক বান্ধব। এটি ট্যাব এবং মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে এবং Android I IOS অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোর এবং ম্যাক অ্যাপ স্টোর হতে সহজেই ডাউনলোড করা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।