নিজস্ব প্রতিবেদক: ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে তামাকব বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্, এনডিসি। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে যোগদান করে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কর্মসূচী পরিচালক কাজী জেবুন্নেছা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজর অধ্যাপক ডাক্তার সাকিল আহম্মদ।
রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) জিয়াউল হক এর উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান খলিলুর রহমানসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিকার, বিএসটিআই, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, আনসার ভিডিপি, সংবাদপত্র সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মরত অন্যান্য কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, ধুমপানে কোন উপকার নাই। তামাক ব্যবহার সমাজে একটা ট্রেডিশণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পান জদ্দা না দিলে সম্মান থাকেনা। তিনি বলেন, তামাক এমন একটি পণ্য যা সেবন ও খেলে মারাত্বক রোগ হয়। সচেতনার অভাব না থাকলেও নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এবিষয়ে ট্রাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে। তাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সভা সেমিনার করা হচ্ছে। কেউ ধুমপান করলে তার পাশের লোকের বেশী ক্ষতি হয়। তবে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মানুষ অনেক সতর্ক হয়েছে।
তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে কৃষি মন্ত্রণায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক সেবন ও খাওয়ায় ডায়াবেটিকসসহ শরীরে নানা ধরনের পচন রোগ দেখা যায়। বাজারে তামাকের বিজ্ঞাপন যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে। ক্ষতি কমাতে নির্দিষ্ট স্থানে ধুমপান করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত পন্যের ুস্পাপ্যতার সৃষ্টি করা। অধিকহারে করারোপ করা প্রয়োজন। সেইসাথে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বাড়ি ও পাড়া মহল্লাহ পর্যায়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর তামাক সেবনের ফলে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসা করতে চল্লিশ হাজার কোটি টাকার বেশী সরকারের ব্যয় হয়। এতে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এসডিজি পুরণে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য সেবন ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সভার সভাপতিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, তামাকের সহজলভ্যতা দূর করতে হলে তামাকজাতপন্য বিক্রয়ে সকল পর্যায়ে লাইসেন্স এর ব্যবস্থা করতে হবে। ওলিগলি ও পাড়া মহল্লায় যেন যত্রতত্র তামাকপন্য বিক্রয় করতে না পারে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তামাককে নেশার প্রধান উপকরণ হিসেবে একে নেশা জাতীয় দ্রব্যের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সেইসাথে উৎপাদন ও বিপনন পর্যায়ে কঠোর নজরদারী এবং ব্যপকভাবে মূল্য বৃদ্ধিসহ উন্মুক্তস্থানে ধুমপান করতে দেখলে জরিমানার হার বৃদ্ধি করতে হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তাঁরা।