মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রাজশাহীতে তীব্র সার সংকট, বিপাকে চাষীরা বিএডিসি’র অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২
  • ৩০৯ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলায় মোট ফসলি জমির পরিমান প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮১৫ হেক্টর। এবার আমন ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর, অর্জন ৭৮ হাজার হেক্টর জমি। উক্ত লক্ষমাত্রা অর্জনে সরকারের বরাদ্দকৃত সার নিয়ে চরম বিপাকে কৃষকরা। লক্ষমাত্রা অর্জনে অতিরিক্ত সার বরাদ্দের প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যাপক সার সংকটে কৃষকরা। এই সার সংকটে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও সরকারের বরাদ্দকৃত সারও ঠিকমত পাচ্ছেন না কৃষকরা। সরকারের বরাদ্দকৃত সারও অপ্রতুল।

চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাচ্ছে না ডিলাররা। বরাদ্দের সার বন্টনেও রয়েছে বৈষম্য। এদিকে গত ২৮ জুলাই কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহীতে এসে বলেছিলেন ‘আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত দেশে সারের কোনো সমস্যা হবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ! আসছে আলুর সিজনে এই সংকট আরো তীব্র হবে আশংকা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট সকলে।

ডিলারদের ভাষ্যমতে, তাঁরা জুলাই মাসের এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের বরাদ্দ এখনো পাননি। আগস্টের টাকাই জমা নিচ্ছে না। জেলায় আগস্ট মাসের বরাদ্দ ৮০০ মেঃটন। তা এখনো পাননি কৃষকরা। আগস্টের বরাদ্দের সম্পূর্ণটাই বিএডিসি আমদানি করেছে। বিএডিসি বলছে ৮০০ মেঃটন এর মধ্যে ১৯০ মেঃটন (১০ আগস্ট পযর্ন্ত) বন্টন করা হয়েছে। অথচ কাগজ কলমে রাজশাহী বিএডিসি গোডাউনে এমওপি মজুত আছে ২.৮০ মেঃটন। যদিও জুলাই মাসের এমওপি সার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) আমদানি করেছে। তবুও বরাদ্দের আমদানিকৃত সার এখনো ডিলাররা পাচ্ছেন না। ফলে কৃষকরা সার না পেয়ে আমনের সিজনে চরম হুমকির মুখে পড়েছেন।

ডিলাররা আরও বলেন, এদিকে নতুন করে আলুর সিজেন শুরু হতে যাচ্ছে। সারের এই সংকট নিরসন করা না গেলে আলু চাষও ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা। সরকারের বরাদ্দকৃত সারের বাহিরে আমদানি করা অতিরিক্ত সার আসতো বাজারে। বর্তমানে সেই সার না আসায় সংকটটি আরও তীব্র হয়েছে। এমন্তব্যস্থায় সরকারের অতিরিক্ত সার বরাদ্দ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

এই সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সার বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা ইউনিট।এদিকে এই সংকটের মধ্যেও সার বন্টনে বৈষম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যানা যায়, তানোর উপজেলার কামার গা ইউনিয়নের আমন ধানের চাষ যোগ্য লক্ষমাত্রা ২৬৫০ হেক্টর জমি। সেখানে এমওপি বরাদ্দ ২১ মেট্রিকটন। অপরদিকে পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে আমন ধানের চাষ যোগ্য লক্ষমাত্রা ৬৫০ হেক্টর। তাদের বরাদ্দ ২.৯ মেঃটন এবং হরিয়ান ইউনিয়নে ৫৫০ হেক্টরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭.২ মেঃটন। এতে দর্শনপাড়ার অনেক কৃষক সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলার জন্য গত জুলাই মাসের এমওপি সার বরাদ্দ ছিল ৯৪৭ মেট্রিক টন। এই সার বরাদ্দ করা হয়েছে গত ২১ জুন। বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, এই সার সব সার ডিলারের মধ্যে সমহারে উপবরাদ্দ করে উপবরাদ্দের কপি আবশ্যিকভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। ডিলারেরা যাতে সঠিক সময়ে সার উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে আগস্ট মাসে ৮০০ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গত ৭ জুলাই। এই সারের পুরোটাই বিএডিসির রাজশাহীতে এই বরাদ্দের সার ডিলাররা এখনো পাননি। কৃষকেরা সার নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। এবার বাহির থেকে সার ক্রয় করাও প্রায় অসম্ভব। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চারগুন বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। সেই কারণে আমদানিকারক ঠিকাদাররা সার আমদানি করছেন না।

রাজশাহী বিএডিসি গোডাউনের সহকারী পরিচালক (সার) আরিফুজ্জামান বলেন, অফিসের কাজ অনেক। তিনি তাঁর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগ্ম পরিচালক জুলফিকার আলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

বিএডিসি রাজশাহীর যুগ্ম পরিচালক জুলফিকার আলী’র অফিসে যেয়ে তাকে না পাওয়ায় ফোন করা হলে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে আমি বাহিরে আছি বিকাল ৪ টার পর ফোন দিলে এবিষয়ে কথা বলবো। বিকাল ৪ টার পর একাধিক ফোন থেকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোজদার হোসেনকে অফিসে না পাওয়ায় অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের বরাদ্দকৃত সার বিএডিসি গোডাউনে আছে। তাঁরা বরাদ্দকৃত সার ডিলারদের প্রদান করবেন। পূর্ব থেকে এইভাবে সার বরাদ্দ হয়ে আসছে। এখন কেন সংকট দেখা দিয়েছে তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের বরাদ্দের বাহিরেও সার আমদানি করতো অনেকে যা এখন বন্ধ আছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেশি তাই অনেকে সার আমদানি করছে না। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সার বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে যে আবেদন আমার কাছে এসেছে, সেটি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি পাঠিয়েছি, অতিরিক্ত বরাদ্দ পেলে এই সংকট নিরসন হবে, তবে এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্ট বলছেন, যতটা সংকট শোনা যাচ্ছে, ততটা সংকট আসলে নেই।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin