নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আগ অগ্রগণ্য’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে নানা আয়োজনে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহীর উদ্যোগে বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী, মুজিব শতবর্ষসহ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায় পরিবর্তন মোকাবেলায় জেন্ডার সমতার ভূমিকা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন-৩৭ এর সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, জাতীয় মহিলা সংস্থা রাজশাহীর চেয়ারম্যান বেগম মর্জিনা পারভীন ও মহিলা বিয়ষক অধিদপ্তর রাজশাহী উপপরিচালক শবনম শিরিন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মারিয়া পেরেরা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাবিহা সুলতানা, মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মালিহা জামান মালা, মহানগর মহিলা লীগের সভাপতি সালমা রেজা, রাজশাহী জেলা মহিলা লীগের সহ-সভাপতি রোকসানা মেহবুব চপলা, রাজশাহী মহানগর মহিলা লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসমীন রেজা ফেন্সি ও দিনের হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনাসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত নারী নেতৃবৃন্দ নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, এখনো নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। যাত্রাপথে, চাকুরী স্থলে হেনস্তার স্বীকার হচ্ছে। বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করলেও পুরষতান্ত্রিক এই সমাজে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে কোনভাবেই নারীদের অধিকার সম্পূর্নভাবে পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তারা।
এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে অনেক কাজ করছেন। চাকুরীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। যানবাহনে নারীদের জন্য ঢাকায় আলাদা বসার ব্যবস্থা এবং আলাদা যানবাহনের এর ব্যবস্থা করেছন। গার্মেন্টস সেক্টরে আশি শতাংশ নারী কাজ করছে। শিক্ষক থেকে শুরু করে আইন শৃংখলাবাহিনী, বেসরকারী উন্নয়ন সেক্টরে এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সুনামের সাথে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, কারো অধিকার কেউ দেয়না। অধিকার করে নিতে হয়। আর এই অধিকার আদায়ে নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে নারী উদ্যেক্ত্যতা হিসেব সফল হওয়ায় পাঁচজন নারীকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান এবং আটটি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের পেয়ার লিডারদের হাতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা বই উপহার হিসেবে তুলে দেয়া হয়।