মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রাজশাহীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২
  • ৩৮০ বার দেখা হয়েছে
Darkness surrounds residential homes due to a load shedding blackout by Eskom Holdings SOC Ltd. in the Troyeville suburb of Johannesburg, South Africa, on Monday, Nov. 3, 2014. Eskom said South Africa's power supply remains strained as it investigates what caused a silo storing coal to collapse, forcing the state-owned utility to cut electricity to customers. Photographer: Dean Hutton/Bloomberg via Getty Images

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহনাগরীতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে একদিকে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে পানির সংকটে নগরবাসীর জীবনধারন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে মাত্র। চলতি মাসের প্রথমদিন থেকেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লোডসেডিং এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ সরকারীভাবে প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে দেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নাই। উপরোন্ত চাহিদার তুলনায় অনেক বেশী রয়েছে, মানে উৎপাদন হচ্ছে। তাহলে এ অবস্থা কেন বিরাজ করছে এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

আধাঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের অবস্থা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তারও সদুত্তর দিতে পারছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ বিভাগ। বৃষ্টিহীন আষাঢ়ে কাট ফাটা রোদ আর গরমের দাপটে জনজীবনে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন মিলছে না বিদ্যুৎ। অস্বাভাবিক ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে তাই রাজশাহীর সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবার মুখে একই কথা- এমন বিদ্যুৎ সংকট এর আগে কখনও দেখেননি কেউ। যতই দিন যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট ততই যেন বাড়ছে।

দিনেরও বেশি সময় থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না নর্দান ইলেকট্রিসিটি পাওয়ার কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড।এতে অফিসে-আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। জেনারেটর, আইপিএস ও ইউপিএস কোনো কিছুই দিয়েই অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। পচতে শুরু করেছে বাড়ির ফ্রিজের মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও ফলমূলও।

ভোর নেই, সকাল নেই, দুপুর নেই, সন্ধ্যা নেই, রাত নেই- বিদ্যুতের আসাযাওয়া চলছে প্রতি আধাঘণ্টা পর পর। কোনো কোনো এলাকায় ১০-২০ মিনিট পরপরও লোডশেডিং দিচ্ছে নেসকো।

মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকার ব্যবসায়ী সারওয়ার হোসেন পলাশ বলেন, রাজশাহীতে এমন বিদ্যুৎ সংকট তিনি এর আগে কখনও দেখেননি। তার নিকট মনে হয়- এই কারণেই রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট, বিপণী বিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীটা বিষয় ছিল না, সংকট ছিল বলেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে এই নিয়ম উঠে যাওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেসকো সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী দৈনিক বিদ্যুতের যে পরিমান চাহিদা রয়েছে গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এর অর্ধেক বিদ্যুৎ। ফলে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও অর্ধেক সময় বিদ্যুৎহীনই থাকছে রাজশাহী। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আর কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তারও সদুত্তর দিতে পারছেন কেউই। বাধ্য হয়ে শহর কন্ট্রোল রুম ও একমাত্র অভিযোগ কেন্দ্রের ফোনটি এখন প্রায় সব সময়ই তুলে রাখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নেসকো রাজশাহী বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, এটি রাজশাহীর একার নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাদেরকে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। রাজশাহীর জন্য চাহিদা ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু সরবরাহ মিলছে এর অর্ধেক। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩০ মিনিট অন ও ৩০ মিনিট অফ রাখতে হচ্ছে। সেই হিসেবে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। সমস্যাটা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে প্রশ্নে- প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সেটা তারাও জানেন না। এজন্য সুনির্দিষ্টভাবে তারাও কিছু বলতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন- নেসকোর এই ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা।
এদিকে বিদ্যুতের কারেন পানির সংকট মহানগরীতে চরম আকার ধারন করেছে। এ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী ওয়াসার প্রকৌশলী রেজাউল হুদা কোকো বলেন, পানির কোন সমস্যা নাই। তবে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডসেডিং এর কারনে তাঁর সঠিক নিয়মে গভীর নলকুপ চালাতে পারেছেন না। ফলে নগরজুরে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ অবস্থা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin