নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাপ-পিড়িচ প্রতিক নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল ৫৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার পেয়েছেন ৫৬৬ ভোট। ৩২ ভোটের ব্যবধানে মীর ইকবাল বেসরকারীভাবে রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলেন।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এই ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান ভোট প্রদানের হার ৯৯ শতাংশ। রাজশাহীতে ভোটার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৮৫ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ হাজার ১৭৫ জন ভোটার। মোট ১০ জন ভোট দেননি। এই ভোটারের মধ্যে চারজন কারাগারে এবং একজন মারা গেছেন । আর পাঁচজন ভোট দেননি। এছাড়া অপর দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আফজাল হোসেন আনারস প্রতিক পেয়েছেন ৪ ভোট এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল তালগাছ প্রতিকে ভোট পেছেন ৭টি।
নয়টি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল ভোট পেয়েছেন ৬৮ টি ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার পেয়েছেন ৭৪ ভোট, দুর্গাপুরে মীর ইকাবল পেয়েছেন ৫৫ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৫১ ভোট, পুঠিয়ায় মীর ইকবাল পেয়েছেন ৪৫ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৪৯ ভোট, তানোরে মীর ইকবাল পেয়েছেন ৭৩ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৪৪ ভোট, চারঘাটে মীর ইকবাল পেয়েছেন ৪৮ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৪২ ভোট, পবায় মীর ইকবাল পেয়েছেন ৮১ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৮৮ ভোট, বাঘায় মীর ইকবাল পেয়েছেন ৭১ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৪৯ ভোট, মোহনপুরে মীর ইকবাল পেয়েছেন ৪৮ ভোট, আখতার পেয়েছেন ৪৫ ভোট এবং বাগমারায় মীর ইকবাল পেয়েছেন ১১২ ভোট,আখতার পেয়েছেন ১২১ ভোট।
এছাড়া রাজশাহী জেলা পরিষদের ৯টি সাধরণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩০ জন প্রার্থী। আর সংরক্ষিত আসনের ৩ জনের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিজীয় হয়েছেন ১নং ওয়ার্ডে আব্দুর রশিদ, ২নং ওয়ার্ডে মাইনুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ডে তফিকুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ, ৬নং ওয়ার্ডে আবু জাফর প্র্ংা, ৭নং ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামান মাসুদ, ৮নং ওয়ার্ডে জনাব আলী ও ৯নং ওয়ার্ডে মহিদুল ইসলাম।
আর নারী সংরক্ষিত আসন-১ শিউলী রানী সাহা, সংরক্ষিত আসন-২ সুলতানা পারভীন রিনা ও সংরক্ষিত আসন-৩ সাজেদা বেগম বিজয়ী হয়েছেন। উল্লেখ্য সাধারণ সদস্য আসন-৪ মোহনপুর উপজেলা হতে সদস্য পদে দ্বিতীয় কোন প্রার্থী থাকায় দিলিপ কুমার সরকার বিনা প্রতিদন্দিতায় পূবেই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রাজশাহীর নয় উপজেলায় ১৮টি বুথে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহীর কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সার্ভারের সমস্যায় সকালে প্রায় কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ শুরু করতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি হয়। যদিও দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে হামলা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে এই নির্বাচনের শুরু থেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। তবে সকাল থেকেই ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য সাড়িবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বেলা গড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, সবগুলো কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল এবং সময়মতো শেষ হয়েছে। সকাল থেকেই সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি রাজশাহীর জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।