নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন এলাকাকে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা এবং শিল্প এলাকা। বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে, বারিন্দ এনভায়রনমেন্ট এর সহযোগিতায় পরিবেশ বান্ধব শহর রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনে ও রাতে শব্দের ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়।
তালাইমারী মোড়, রেইলগেট, বিসিক মঠ পুকুর, লক্ষিপুর মোড় ও সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট হতে শব্দের ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে তালাইমারী মোড় নীরব এলাকার মধ্যে, রেইলগেট, লক্ষিপুর মোড় ও সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে এবং বিসিক মঠ পুকুর শিল্প এলাকার মধ্যে পরে।
শব্দের ঘনমাত্রা নির্ণয়ের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইকবাল মতিন। পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী জাকির হোসেন খান (পি.এইচ.ডি.)। এ কাজে সহযোগিতা করেন অলি আহমেদ (পি.এইচ.ডি. গবেষক), শেখ ফয়সাল আহমেদ, ওবায়দুল্লাহ, শামসুর রাহমান, শরীফ, তারেক ও আজিজ।
বিগত সময় গুলোতে দেখা যায় রাজশাহী শহরে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে এবং বর্তমানে তা প্রায় ২% এর নিকটে। শব্দের ঘনমাত্রা নির্ণয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমানে জনবহুল শহরের শব্দের ঘনমাত্রা পর্যবেক্ষণ। কারণ মাত্রারিক্ত শব্দের জন্য মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ঘুম অনিয়মিত হয়, রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের ক্ষতি করে, এমন কি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে।
এস আর ও নং ২১২-আইন ২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৭০ ও ৬০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল। রাজশাহী শহরে নীরব এলাকায় (রুয়েট এর নিকটে) দিনে শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া যায় ৮৪ ডেসিবেল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া যায় ৮৮ থেকে ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে।
শিল্প এলাকায় দিনে শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া যায় ৭৪ ডেসিবেল। প্রাপ্ত মান গুলো থেকে দেখা যায়, রাজশাহীরর শিল্প এলাকা ছাড়া অন্য সব জায়গায় নির্ধারিত শব্দের ঘনমাত্রা অতিক্রম করেছে। পরিবেশ বান্ধব শহরে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যত্রতত্র হর্ন না বাজানোর জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। নির্মাণ কাজে শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিশুরা শব্দ দূষণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শব্দ দূষণের প্রভাব শুধু মানুষের উপর না, প্রতিটি পশু-পাখির উপর পরে।