নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে খান ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত, “ভয়েসেস ফর চেঞ্জ-এমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ গভার্নেন্স, সোস্যাল জাস্টিস এন্ড জেন্ডার ইকুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায় সরকারি সেবাপ্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরায় সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা এবং লফস্ আয়োজন ও বাস্তবায়ন সহযোগিতায়, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর আর্থিক এবং জিএফএ নাগরিকতা এর কারিগরি সহযোগিতায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজশাহীর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহীর প্রোগ্রাম অফিসার রহিমা রওনক, সমতা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক নজরুল ইসলাম।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার যুবসমাজ। বেকার যুবক ও যুবতীদের কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, সেলাই ও ব্লক-বাটিক, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণগ্রহণকারী যুবকদের জন্য সহজ শর্তে ‘যুব ঋণ’ প্রদান করছে। যাতে তাঁরা বেকার না থেকে উদ্যোগ গ্রহন করে উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। কারণ দক্ষ হাত কখনোই বেকার থাকে না।’
এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ‘যুব সংগঠনগুলো বৃক্ষরোপণ, রক্তদান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় সরকার যদি এই সংগঠনগুলোকে সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে, তবে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং ইভটিজিং নির্মূল করা সহজ হবে বলেও মনে করেন। তিনি তরুন ও যুবদের প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আহ্বান করেন।’
সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অসংখ্য জনকল্যাণমূলক সেবা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব বা সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষ সেই সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো দ্বিধা ছাড়াই তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিতে পারেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অনুরোধ করব, আপনারা কেবল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেবেন না, বরং সমাধানের পথও বাতলে দেবেন। আপনারা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ মাঠ পর্যায়ের সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এধরণের কর্মসূচীর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তাঁরা।
সরকারি সেবাপ্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন খান ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন লফস’র নির্বাহী পরিচালক শাহনাজ পারভীন লাকি, দুঃস্থ মহিলা কল্যাণ সংস্থার পরিচালক রহিমা বেগম, বস্তি উন্নয়ন ও কর্ম সংস্থার পরিচালক হাসিনুর রহমান, আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ইউসুফ আলী চৌধুরী, অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা পরিচালক রবিউল ইসলাম, সুরভি মহিলা সমিতির সভাপতি মাকসুদা বেগম, খান ফাউন্ডেশন (পবা-পুঠিয়া) প্রকল্প কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র সরকার, খান ফাউন্ডেশন (দূর্গাপুর-চারঘাট) প্রকল্প কর্মকর্তা শিরিনা আকতারসহ, সরকারি কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য, কর্ম এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।